সুন্দরবনের গহীনে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখোমুখি হয়ে অবিশ্বাস্য বুদ্ধিমত্তা ও সাহসিকতায় জীবন বাঁচালেন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের প্রবীণ মৌয়াল বাবলু গাজী (৫০)। তার পাশে থাকা ড্রামের ভেতর বাঘের মাথা ঢুকিয়ে দিয়ে কাবু করার এই রোমাঞ্চকর ঘটনাটি এখন পুরো এলাকায় মুখে মুখে ফিরছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শী বনজীবীদের বরাতে জানা যায়, বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে সঙ্গীদের সাথে সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে মধু সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন বাবলু গাজী। মধু কাটার একপর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে একটি হিংস্র রয়েল বেঙ্গল টাইগার তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও দমে যাননি বাবলু।
জীবন বাঁচাতে তিনি বাঘের থুকনির নিচের লোম শক্ত করে টেনে ধরেন। লড়াইয়ের একপর্যায়ে পাশে থাকা মধু সংগ্রহের একটি খালি ড্রামের ভেতর বাঘের মাথাটি কৌশলে ঢুকিয়ে দেন তিনি। মাথা আটকে যাওয়ার পর বাঘটি মুক্ত হতে প্রচণ্ড লাফালাফি ও ছটফট শুরু করলে ড্রামের ভেতরে বিকট শব্দের সৃষ্টি হয়। এই অতর্কিত ও তীব্র শব্দে বাঘটি নিজেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে বাবলু গাজীকে ছেড়ে দিয়ে বনের গভীরে পালিয়ে যায়।
সহযাত্রী মৌয়ালরা জানান, ‘বাঘ বাবলুরে জব্দ করবে কি, উল্টো বাবলুই বাঘরে জব্দ করে ছেড়েছে!’
রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় বাবলু গাজীকে উদ্ধার করে দ্রুত লোকালয়ে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে তিনি সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বাঘের কামড় ও থাবায় আহত বাবলু গাজীর শরীরে সফলভাবে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে তার চিকিৎসা চলমান রয়েছে এবং আশঙ্কামুক্ত অবস্থায় তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
উপকূলীয় অঞ্চলের জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের জীবনের ঝুঁকিপূর্ণ বাস্তবতার আরেকটি উদাহরণ হয়ে থাকল এই ঘটনা। জীবিকার প্রয়োজনে প্রতিনিয়ত মৃত্যুকে সঙ্গে নিয়েই সুন্দরবনে যেতে হয় তাদের। তবে অসীম সাহস, উপস্থিত বুদ্ধি আর জীবন বাঁচানোর তাগিদে এবার বাঘের মুখ থেকেও ফিরে এলেন বাবলু গাজী।