কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ফিশারিজ বিভাগের শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক ও কয়েকজন শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার(১৯ মে) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে লালমনিরহাটের তিস্তা টোল প্লাজায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহতের অভিযোগ পুলিশের উসকানিতেই এই হামলা হয়েছে।
ফিশারিজ বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল বাকি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িগুলো টোল প্রদান করে না। এর আগেও আমরা টোল ছাড়া যাতায়াতের সুবিধা পেয়েছি। আজকেও টোল কর্মীদের সেটা বলার পরেও আমাদের গাড়ি আটকে দেন। আরেকটি গাড়ি থেকে আমাদের বিভাগের আব্দুর রাজ্জাক স্যার নেমে এসে টোল পরিশোধ করেন। গাড়ি সেখানে দাঁড়িয়ে থাকায় সেখানের দায়িত্বরত কয়েকজন পুলিশ সদস্য এসে এক স্যারের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা শুরু করেন। এক পর্যায়ে টোল প্লাজার কর্মীরা আমাদের ওপর হামলা চালান। সেসময় পুলিশ পাশে থাকলেও আমরা কোনো সহায়তা পাইনি।’
হামলায় আহত এক শিক্ষক বলেন, ‘একজন পুলিশ সদস্য আমার সঙ্গে বাজে ব্যবহার করছিলেন। আমার গায়ে ধাক্কাও দিয়েছিলেন ও আঙুল তুলে কথাও বলছিলেন। আমি সেটার প্রতিবাদ করছিলাম। পেছনে ফিরে দেখি টোল প্লাজার কর্মীরা আমার ছাত্রদের ওপর এলোপাথাড়ি হামলা চালাচ্ছে। আমি দ্রুত তাদের উদ্ধার করে বাসে তুলে দিতে গেলা তারা আমার ওপর হামলা করে। আমার পোষাক ছিঁড়ে ফেলে। এরপর আমাকে আটকে রাখে। কিছুক্ষণ পর শিক্ষার্থীরা এসে আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে এসে আমরা কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ভর্তি হই।‘
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ পুলিশের উসকানিতে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ যদি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করত, তাহলে এই ঘটনা ঘটত না।
কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘গতকাল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় আজ আমাদের একটি প্রতিনিধিদল লালমনিরহাট থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।’
এ বিষয়ে লালমনিহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ বলেন, ‘পুলিশ উসকানি দিয়েছে কথাটি সঠিক নয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দূরে ছিল এবং সংঘর্ষ বাধলে তা থামানোর জন্য পুলিশ এগিয়ে আসে।’
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।