গাইবান্ধায় স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুক মামলায় ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহজাহান মিয়াকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। টাকা অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেল চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিচারক মাহাবুবুর রহমান এই রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে পুলিশি নিরাপত্তায় জেলা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাদী পক্ষের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২১ সালের ৫ মার্চ গাইবান্ধার সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের বাড়াইপাড়া গ্রামের মৃত ছামছুল হকের ছেলে শাহজাহান মিয়ার সঙ্গে সাদুল্লাপুর উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের মহিষবান্দি গ্রামের নজরুল ইসলামের মেয়ের লাবনী আকতার ইতির বিয়ে হয়।
বিয়ের চার মাস ১৯ দিন ঘর সংসারের পর ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। যৌতুক দিতে না পারায় দুই মাসের অন্তসত্বা অবস্থায় একই সালের ২৪ জুলাই ইতিকে নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। একাধিকবার খোলাহাটি ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন। বারবার শালিস করেও কোনো প্রতিকার পাইনি ভুক্তভোগী মেয়ের পরিবার। এদিকে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা গ্রাম্য সালিশের রায় মানেননি।
পরে ২০২২ সালের ১ আগষ্ট লাবনী আকতার ইতি বাদী হয়ে যৌতুক নিরোধ আইনে গাইবান্ধা সদর আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর সিআর ৫৩৩/২২। দীর্ঘ প্রায় চার বছর স্বাক্ষী প্রমাণ গ্রহণে যৌতুক দাবি প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই রায় দেন।
রায় প্রসঙ্গে মামলার বাদী লাবনী আকতার ইতি বলেন, ‘এই রায়ে আমি খুশি হয়েছি। ন্যায্য বিচার পেয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমার চার বছর বয়সের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। দীর্ঘদিন শাহজাহান সন্তানের ভরনপোষন দেওয়া তো দূরের কথা, আমার সন্তানের খোঁজখবরও নেয়নি।’