ময়মনসিংহে হামের প্রকোপ দিন দিন উদ্বেগজনক আকার ধারণ করছে। এবার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হাসপাতালটিতে চলতি মৌসুমে হামের উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ জনে। একই সঙ্গে প্রতিদিন নতুন নতুন শিশু ভর্তি হওয়ায় বাড়ছে আতঙ্ক ও চাপ।
শনিবার (২৩ মে) সকালে হাসপাতালের সিনিয়র স্টোর অফিসার ডা. ঝন্টু সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ মারা যাওয়া শিশুটির বয়স ছিল মাত্র সাড়ে তিন মাস। সে ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর উপজেলার দিউ গ্রামের বাসিন্দা। গত ২০ মে শিশুটিকে হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত শিশুর চাপ অনেক বেড়ে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৯ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে পাঁচজন শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৭ মার্চ থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ৫৬০ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৪২৫ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে আরও ১০০ শিশু।
পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় ৬৪ শয্যার একটি পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। সেখানে তিনটি মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে।
হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকাল পারসন ও সহযোগী অধ্যাপক মোহা. গোলাম মাওলা জানিয়েছেন, অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ ও জটিলতার ঝুঁকি অনেক বেশি। বিশেষ করে যেসব শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের অবস্থার দ্রুত অবনতি হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, গুরুতর অসুস্থ শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত আইসিইউ সুবিধা না থাকায় বিকল্প ব্যবস্থায় চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হচ্ছে। কোনো রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের সংক্রমণ প্রতিরোধে শিশুদের সময়মতো টিকা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেওয়া এবং পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
এদিকে হাসপাতালজুড়ে বাড়তি রোগীর চাপ ও শিশু মৃত্যুর ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।