প্রায় দীর্ঘ এক যুগ পর নির্বাচনী আমেজে ফিরেছে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ। শেষবার ২০১৩ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও পরবর্তী সময়ে ভোট ছাড়াই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় গঠিত হয় কমিটি। তবে এবার ভোটারদের সরব উপস্থিতি ও ব্যবসায়ীদের উৎসাহে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলা যায়।
শনিবার (২৩ মে) চট্টগ্রাম চেম্বারের দ্বিবার্ষিক এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নগরীর আগ্রাবাদ এলাকার ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের নিচতলায় সকাল ৯টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। ভোট গ্রহণ চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। নির্বাচনে একজন সাধারণ শ্রেণির ভোটার ১২টি এবং সহযোগী শ্রেণির ভোটার ছয়টি ভোট দিতে পারবেন।
চট্টগ্রাম চেম্বার সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসায়ীদের ভোটে সাধারণ শ্রেণি থেকে ১২ জন, সহযোগী শ্রেণি থেকে ছয়জন এবং টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ শ্রেণি থেকে তিনজন করে মোট ছয়জন পরিচালক নির্বাচিত হবেন। এভাবে ২৪ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ গঠিত হবে। পরে নির্বাচিত পরিচালকদের ভোটে সভাপতি ও দুইজন সহসভাপতি নির্বাচিত করা হবে।
চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী, সাধারণ শ্রেণিতে এবার ৩৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দুই প্যানেলের ২৪ জনের পাশাপাশি রয়েছেন আরও ১৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। সহযোগী শ্রেণিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৫ জন। এর মধ্যে দুই প্যানেলের ১২ জন ছাড়াও রয়েছেন তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থী। অন্যদিকে ট্রেড গ্রুপ ও টাউন অ্যাসোসিয়েশন থেকে তিনজন করে মোট ছয়জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পথে রয়েছেন।
চেম্বারের মোট ভোটার সংখ্যা ৬ হাজার ৭৮০ জন। এর মধ্যে সাধারণ সদস্য ৪ হাজার ১ জন এবং সহযোগী সদস্য ২ হাজার ৭৬৪ জন। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, এবার ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ ভোট পড়তে পারে। দীর্ঘদিন পর ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ দেখা গেছে।
এবারের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুটি প্যানেল গঠিত হয়। একটি হলো বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহসভাপতি এস এম নুরুল হকের নেতৃত্বাধীন ‘সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ’ এবং অন্যটি এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক আমিরুল হকের নেতৃত্বাধীন ‘ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম’।
তবে ভোটের আগের দিন শুক্রবার (২২ মে) নির্বাচনকে ‘প্রহসনের নির্বাচন’ আখ্যা দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেয় সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ। যদিও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় ব্যালট পেপারে তাদের প্রার্থীদের নাম ও প্রতীক বহাল রয়েছে।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের নিচতলায় ভোটার ও ব্যবসায়ীদের উপচে পড়া ভিড়। ১৭টি বুথে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। ভোটাররা ব্যালট সংগ্রহ করে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিচ্ছেন। কেন্দ্রের বাইরেও ব্যবসায়ীদের সরব উপস্থিতি দেখা গেছে।
নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করছেন তিনজন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা। তাদের একজন বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার সুব্রত বিশ্বাস দাস এক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সুষ্ঠুভাবেই ভোট গ্রহণ চলছে। ভোটার উপস্থিতিও ভালো। আশা করছি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে।’