বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর দরবার কর্মসূচিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে তিন আনসার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার বিকেলে গ্রেফতার আনসার সদস্যদের আদালতে হাজির করা হলে তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে গাজীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে, গত বৃহস্পতিবার আনসার ও ভিডিপির অ্যাডজুট্যান্ট মাসুদ হাসান বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন— গাজীপুর মহানগরীর সামান্তাপুর এলাকার আফাজ উদ্দিন সরকারের ছেলে রায়হান উদ্দিন সরকার, একই এলাকার ইউনুস আলীর ছেলে আশরাফুল আলম এবং নগরীর নহরীর পাড় এলাকার ইউনুস আলীর ছেলে শাকিল আহমেদ। তারা সবাই ইয়ুথ লিডারশিপ কোর্সের প্রশিক্ষণার্থী ও নিজ নিজ এলাকার টিডিপি দলনেতা ছিলেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত জাতীয় সমাবেশ ও প্রধানমন্ত্রীর দরবার কর্মসূচি বানচালের উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল। তারা ইনস্ট্রাক্টর কোর্সের প্রশিক্ষণার্থীদের ব্যবহার করে সংগঠিতভাবে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া উত্থাপন এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালানোর চেষ্টা করে।
এজাহারে আরও বলা হয়, অভিযুক্তরা একটি বিশেষ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। সেখানে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে আন্দোলনে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করা হয়। একই সঙ্গে অজ্ঞাত ও বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রীর দরবারকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টাও চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১৭ মে সফিপুরের বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া প্রায় ১৭৭ জন সদস্যের মধ্যেও এ চক্র সক্রিয় ছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। তাদের মাধ্যমে ভাতা বৃদ্ধি, রেশন সুবিধা, স্থায়ীকরণ, নিয়োগে অগ্রাধিকারসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক দাবি সামনে আনা হয়। এসব দাবি আদায়ের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে চাপ সৃষ্টির পরিকল্পনা ছিল বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।
মামলার বাদী মাসুদ হাসান জানান, সমাবেশকে ঘিরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে মামলা দায়েরের পর পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতার তিন আসামিকে শুক্রবার আদালতে হাজির করা হলে তারা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।