ঈদযাত্রায় নিরাপত্তা
রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার অন্যতম প্রবেশদ্বার পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা-কাজিরহাট নৌরুট। ঈদ মৌসুমে ঢাকা, সাভার, ধামরাই, টঙ্গী, গাজীপুর, আশুলিয়াসহ আশেপাশের অঞ্চলের মানুষ ঢাকা-আরিচা ও ঢাকা-পাটুরিয়া মহাসড়ক ব্যবহার করে ঘাট এলাকায় পৌছান। রাজধানী ঢাকার বেশিরভাগ মোটরসাইকেল আরোহী ও প্রাইভেটকারযাত্রীরা হেমায়েতপুর-সিংগাইর-মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক ব্যবহার করে পাটুরিয়া ঘাটে যান।
ফলে, ঈদ মৌসুমে ঢাকা-আরিচা ও ঢাকা-পাটুরিয়া মহাসড়কের মানিকগঞ্জ অংশের ৪০ কিলোমিটার এবং সিংগাইরের শহীর রফিক সেতু ( ধল্লা সেতু) থেকে পাটুরিয়ামুখী ৫০ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়কে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে এই দু’টি মহাসড়ক এবং দুটি নৌরুটে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে মানিকগঞ্জে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জেলা পুলিশ। ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও নৌপথে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় মোতায়েন থাকবে প্রায় ৫০০ পুলিশ সদস্য।
জেলা পুলিশ কার্যালয় জানায় , ঢাকা-আরিচা, ঢাকা-পাটুরিয়া মহাসড়ক, হেমায়েতপুর-সিংগাইর-মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক, পাটুরিয়া ও আরিচা নৌপথকে কেন্দ্র করে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এসব রুটে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
মহাসড়কে যানজট নিরসন, চুরি ছিনতাই প্রতিরোধ এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসানো হবে। পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে, যাতে কোনো ধরনের অপরাধ সংঘটিত হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( ক্রাইম এন্ড অপারেশন) মহরম আলী বলেন, ঈদযাত্রাকে সামনে রেখে জেলার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত মোবাইল টিম ও টহল জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাট এলাকায় যাত্রী ও যানবাহনের চাপ সামাল দিতে পৃথক কন্ট্রোল টিম কাজ করবে। কোথাও যানজট বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করা হবে। এজন্য ৫০০ পুলিশ সদস্য কাজ করবে।
মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারোয়ার আলম বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে মহাসড়ক ও নৌরুটকে ঘিরে সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, চেকপোস্ট বৃদ্ধি এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। কোনো ধরনের অপরাধ, চুরি ছিনতাই বা আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করবে পুলিশ।