ঝিনাইদহে এনসিপির সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর প্রতি স্থানীয়ভাবে যে আচরণ করা হয়েছে তা শোভনীয় নয় বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান খান এমপি। তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে, তবে ব্যক্তিগত বা স্থানীয়ভাবে অশোভন আচরণ কেউ কামনা করে না।
সোমবার (২৫ মে) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সার্কিট হাউজে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ঝিনাইদহে এনসিপির সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে তা যেমন এনসিপি রাজনৈতিকভাবে দেখছে, বিএনপিও একইভাবে বিষয়টি বিবেচনা করছে। তবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে স্থানীয়ভাবে যে আচরণ করা হয়েছে, তা কাম্য নয় এবং শোভনীয়ও নয়।
নারী ও শিশু নির্যাতনের বিচার প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালগুলো ঈদের ছুটির মধ্যেও সচল রাখার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসব আদালত ছুটির বাইরে থাকবে, যাতে বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা যায়।
তিনি বলেন, ‘আপনারা দেখবেন, আগামী ১ জুন থেকে শিশু রামিসা হত্যার বিচার কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। ঈদের ছুটির পর প্রথম কার্যদিবসেই বিচার শুরু হবে।’
আইনমন্ত্রী আরও জানান, এ ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আসামির জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে চার্জশিট দাখিল সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা বিচারের প্রক্রিয়ায় দ্রুত এগিয়ে গেছি এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।’
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিটু ও খালিদ মাহমুদ মিল্টন, জেলা যুবদলের সভাপতি শরিফ-উর জামান সিজার ও সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রশীদ ঝন্টু, ছাত্রদলের সভাপতি শাহাজান খান ও সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিতা, স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৈয়দ শরীফুল আলম বিলাস ও সাধারণ সম্পাদক এম এ তালহা এবং কৃষকদলের সভাপতি মোকাররম হোসেনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
এর আগে মতবিনিময় সভায় ‘জুলাই সনদ’ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই সনদকে সবচেয়ে বেশি ধারণ করছে বিএনপি। সনদ বাস্তবায়নে দাড়ি, কমা ও সেমিকোলনসহ প্রতিটি বিষয় নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।’
পরে বিকেলে আইনমন্ত্রী চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা মিশনারি মাঠ প্রাঙ্গণে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে যোগ দেন।
এ সময় মন্ত্রী কবির স্মৃতিফলকে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান ও দোয়া মোনাজাত করেন। কবি যে আটচালা ঘরে বসবাস করে করে গেছেন সেটিও ঘুরে দেখেন।
কার্পাসডাঙ্গার ঐতিহ্যবাহী আটচালা ঘরে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনের সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। তিনি নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত এই স্থানে নজরুল ইনস্টিটিউটসহ স্থানীয় বিভিন্ন দাবির বিষয়টি দেখার আশ্বাস দেন।
তিনি আরও বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন এবং নানাভাবে তার সাহিত্য ও দর্শনকে তুলে ধরেছিলেন। নজরুলের অসাম্প্রদায়িক চেতনা, প্রতিবাদী কণ্ঠ ও মানবতার বাণী নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফন নাহার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবির খানসহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে জেলা- উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, সুধীজন ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালন করেন বিশিষ্ট নজরুল গবেষক চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুন্সি আবু সাঈফ। নজরুলপ্রেমী মানুষের উপস্থিতিতে সমাপনী অনুষ্ঠানটি উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।