গাজীপুরের শ্রীপুরে চতুর্থ শ্রেণীর মাদ্রাসার শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক ইমামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনতা। ভিকটিম জানায় ঘুমন্ত অবস্থায় তার জামা কাপড় খুলে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে অভিযুক্ত খোরশেদ আলম।
সোমবার (২৫ মে) বিকেলের দিকে শ্রীপুর থানা পুলিশ অভিযুক্ত খোরশেদ আলমকে (৫৫) তাদের হেফাজতে নিয়েছে। ঘটনার ঘটেছে উপজেলার শ্রীপুর পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের লোহাগাছ গ্রামে।
অভিযুক্ত খোরশেদ আলম শ্রীপুর পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ড লোহাগাছ গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি মসজিদে ইমামতি করেন।
স্থানীয়রা জানান, খোরশেদ আলম লম্পট প্রকৃতির লোক। তার বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক যৌন নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। সে পুনরায় এক মাদ্রাসার শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছে। এলাকাবাসী তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
ভুক্তভোগী ওই শিশু শিক্ষার্থী বলেন, ‘জেঠি (চাচী) প্রায় রাতে আমাকে তাদের বাড়িতে রাখত। তিনি ঘুমিয়ে পড়লে জেঠা ( ইমাম চাচা) আমাকে বিভিন্ন স্থানে স্পর্শ করতেন। একমাস আগে একদিন রাতে আমি তাদের বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলাম। জ্যাঠা আমার জামা কাপড় খুলে ফেলে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। আমি চিৎকার দিলে জেঠির ঘুম ভেঙ্গে যায়। তারা আমাকে হুমকি দেয় যে, কাউকে বলে আমাকে মেরে ফেলবে। আমার বাবা বাড়িতে ছিলেন না। তাই ভয়ে বিষয়টি কাউকে বলতে পারিনি।’
ভিকটিমের বাবা বলেন, ‘খোরশেদ আলম আমার বড় জ্যাঠাতো ভাই। আমি সৌদি প্রবাসে থাকি। এক বছর পূর্বে তিন সন্তান ফেলে আমার স্ত্রী অন্যের সঙ্গে চলে গেছে। আমার ছেলে মেয়েরা বাড়িতে দাদার সঙ্গে থাকে। খোরশেদের স্ত্রী বিভিন্ন সময় আমার মেয়েকে রাতের বেলায় তাদের বাড়িতে নিয়ে রাখত। এ সুযোগে খোরশেদ আমার মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। আমি তার শাস্তি দাবি করছি।’
এ বিষয়ে শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনুর আলমকে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।
গাজীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (কালিয়াকৈর জোন) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের মাধ্যমে খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্তকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। ভিকটিম ও তার বাবাকে থানায় এনে ঘটনার বিষয়ে জানা হচ্ছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়াধীন আছে।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো: শরিফ উদ্দীন বলেন, ‘এ ঘটনা অবগত আছি।’