ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হাসপাতালটিতে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৩৯ জনে। মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টোর অফিসার ডা. ঝন্টু সরকার।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মারা যাওয়া দুই শিশুর একজনের বয়স ছিল ৬ মাস। শিশুটি গত ১৯ মে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়। শিশুটির বাড়ি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার দাপুনিয়া গ্রামে।
অপরদিকে, ১০ মাস বয়সী আরেক শিশু গত ২০ মে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। মঙ্গলবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। শিশুটির বাড়ি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার দেওথান গ্রামে।
হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ মার্চ থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ৬০৯ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ হাজার ৫০৮ শিশু।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছে ১৬ শিশু। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ২৯ শিশু। বর্তমানে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৬২ শিশু।
হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকাল পারসন ও সহযোগী অধ্যাপক মোহা. গোলাম মাওলা বলেন, হামের টিকা নেওয়া শিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সংক্রমণ ধীরে ধীরে কমছে। ফলে, আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও কমে এসেছে। তবে শিশুদের সুরক্ষায় পরিবারের সদস্যদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।
চিকিৎসকরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো টিকা গ্রহণ এবং আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনাই এই রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। তারা অভিভাবকদের শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি, কাশি বা চোখ লাল হওয়াসহ হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।