বকেয়া বেতন, রেশন, পূজার উৎসব বোনাসসহ সাত দফা দাবিতে অনিদিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছে হবিগঞ্জের চারটি চা বাগানের শ্রমিকরা। সোমবার (২৫ মে) সকাল থেকে হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের দেউন্দি, লালচান, মৃতিঙ্গা ও মাধবপুরের নোয়াপাড়ার চা বাগানে ওই কর্মবিরতি চলছে।
এই চা বাগানগুলোর শ্রমিকরা জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরে নিয়মিত তলবি (সাপ্তাহিক বেতন) পাচ্ছেন না। ফলে, বাগানের প্রায় ৫ হাজার শ্রমিক চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তারা। এতে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে বাগানজুড়ে। এছাড়াও শ্রমিকদের বেতন, ঈদ বোনাস ও অন্যান্য সুবিধা প্রাপ্তি নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
এদিকে, গত ৬ মে শ্রীমঙ্গলে বিভাগীয় শ্রম দপ্তরে মালিক, শ্রমিক ও শ্রম অধিদপ্তরের ত্রিপাক্ষিক একটি বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে শ্রমিকদের সকল বকেয়া দ্রুত পরিশোধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া বর্ষা শুরু আগে জরাজীর্ণ ঘর সংস্কার, শ্রম আইন অনুযায়ী চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, বকেয়া বেতন, রেশন, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও সাপ্তাহিক তলব প্রদান করার সিদ্ধান্তও হয়।
কিন্তু, চারটি চা বাগানের মালিকপক্ষ ওই সিদ্ধান্ত না মানায় বাগানগুলোর শ্রমিকরা সোমবার থেকে কর্মবিরতি শুরু করে। সকাল থেকে শ্রমিকরা বাগান ও ফ্যাক্টরিতে না গিয়ে নাট্যমন্দিরের অবস্থান নেন।
এ ব্যাপারে দেউন্দি চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি আপন সাঁওতাল বলেন, ‘দেউন্দি কোম্পানির অধীনে চারটি বাগান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চা শ্রমিকরা অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে। মালিকপক্ষ সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে ২০২২ সাল থেকে শুধু আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু, কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এমনকি সর্বশেষ শ্রীমঙ্গলের সভার সিদ্ধান্তও তারা বাস্তবায়ন করেনি। তাই বাধ্য হয়ে শ্রমিকরা আজ থেকে অনিদিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছে। আমাদের ৭ দফা দাবি না মানা পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে।’