যশোরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের নেতা রাশেদ খানের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর মঙ্গলবার (২৬ মে) তার বাসায় গিয়ে খোঁজ-খবর নেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২৫ মে) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে যশোর শহরের খোলাডাঙ্গা কদমতলা মোড় এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রাশেদ খান যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগে রাশেদ খান উল্লেখ করেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশীদের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে সোমবার রাত ৯টা ১৫ মিনিটের দিকে প্রতিবেশী মনা, ইমন, জুলি খাতুনসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র, ধারালো দা ও কুড়াল নিয়ে তার বাড়ির পাশের দোকানের সামনে এসে গালিগালাজ শুরু করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, গালিগালাজে বাধা দিলে অভিযুক্তরা তাকে এলোপাথাড়ি মারধর করে। একই সঙ্গে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়ির প্রাচীর ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
রাশেদ খান আরও জানান, অভিযুক্তদের মধ্যে দুজন ধারালো কুড়াল নিয়ে তার দিকে তেড়ে আসেন। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
তার দাবি, ঘটনার পরও অভিযুক্তরা তাকে ও তার পরিবারকে নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। ফলে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
হামলার ঘটনার পর মঙ্গলবার সকালে ঢাকা থেকে যশোরে পৌঁছে রাশেদ খানের বাসায় যান প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এসময় তিনি রাশেদ খানের পরিবারকে আশ্বস্ত করে বলেন, অন্যায়কারী যেই হোক, কোনোভাবেই ছাড় পাবে না। তিনি প্রশাসনের প্রতি ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ভয়ভীতি উপেক্ষা করে আইনি প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রাখার পরামর্শ দেন।
এ সময় যশোর জেলা পরিষদ প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকনসহ জেলা বিএনপির বিভিন্ন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
রাশেদ খান প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোয় আমি ও আমার পরিবার সাহস ও সমর্থন পেয়েছি।’