রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে অপারেটর ইনফরমেশন সাপোর্ট সিস্টেম (ওআইএসএস) স্থাপন করা হয়েছে। এই অত্যাধুনিক ব্যবস্থাটি রাশিয়া প্রথমবারের মতো নিজ দেশের বাইরে বাস্তবায়ন করল। রোসাটম অটোমেটেড কন্ট্রোল সিস্টেম (আরএএসইউ) বর্তমানে কমিশনিংয়ের অধীনে থাকা ইউনিট ১-এর ইন্সট্রুমেন্টেশন অ্যান্ড কন্ট্রোল (আইএন্ডসি) সিস্টেমে সফলভাবে অপারেটর ইনফরমেশন সাপোর্ট সিস্টেম যুক্ত করা হয়েছে।
বুধবার (২৭ মে) দুপুরে রাশিয়ার পরমাণু সংস্থা রোসাটম এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই উদ্যোগ উন্নত ডিজিটাল সহায়তা ব্যবস্থার প্রয়োগ বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপদ ও কার্যকর পরিচালনার জন্য বিশ্বমানের প্রযুক্তি গ্রহণের অঙ্গীকারকে তুলে ধরে।
অপারেটর ইনফরমেশন সাপোর্ট সিস্টেম প্ল্যান্ট অপারেটরদের জন্য একটি স্মার্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করে, যা হাজার হাজার অপারেশনাল প্যারামিটারের রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করতে সক্ষম। এই সিস্টেম তথ্যের ভিজ্যুয়ালাইজেশন উন্নত করে, সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে এবং অপারেশনাল দক্ষতা ও নির্ভরযোগ্যতা বাড়াতে সাহায্য করে।
এই প্রসঙ্গে সিইও আন্দ্রেই বুটকো বলেন, অপারেটর ইনফরমেশন সাপোর্ট সিস্টেমটি কর্মীদেরকে রিয়েল টাইমে পাওয়ার ইউনিটের অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করতে সহায়তা করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। তথ্য প্রক্রিয়াকরণকে অপ্টিমাইজ করে এবং অপারেটরের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করার মাধ্যমে এই সিস্টেমটি পরিচালনগত দক্ষতা ও নির্ভরযোগ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে।
রূপপুর এনপিপি-তে এর বাস্তবায়ন বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক শক্তি প্রকল্পগুলোতে উন্নত ডিজিটাল প্রযুক্তি প্রবর্তনের ক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবির হোসেন বাংলাদেশের জ্বালানি ভবিষ্যতের জন্য এই উদ্যোগটির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেছেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের জন্য একটি যুগান্তকারী প্রকল্প। আধুনিক রিয়্যাক্টর প্রযুক্তির পাশাপাশি ওআইএসএস-এর মতো উন্নত ডিজিটাল সমাধানের সংযোজন একটি শক্তিশালী পরিচালন সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় এবং প্ল্যান্ট কর্মীদের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করবে। এই সিস্টেমটি বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অপারেটরদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক সরঞ্জাম হিসেবে কাজ করবে।
ওআইএসএস সর্বপ্রথম রাশিয়ার নোভোভোরোনেঝ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল এবং দেশটির অন্যতম উন্নত পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কুর্স্ক এনপিপি-২-এ এটি ইতোমধ্যে চালু করা হয়েছে।