ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ১০ নং জামালপুর ইউনিয়নে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন (কাবিটা) প্রকল্পের অর্থ উত্তোলনে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের সাধারণ সম্পাদক জয়গুণ নাহার যমুনার স্বাক্ষর জাল করে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও প্রকল্প সভাপতি মো. ফারুক হাসানের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ফারুক হাসান নিজেই স্বাক্ষর জাল করে টাকা উত্তোলনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কাবিটা কর্মসূচির আওতায় জামালপুর ইউনিয়নের ৫ নং বাকুন্দা ওয়ার্ডে জামিলের বাড়ি থেকে উত্তর দিকের মসজিদ পর্যন্ত রাস্তা সিসিকরণ প্রকল্পের জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এতে সভাপতি করা হয় ইউপি সদস্য মো. ফারুক হাসানকে এবং সাধারণ সম্পাদক করা হয় সংরক্ষিত (৪, ৫, ৬ নং ওয়ার্ড) মহিলা ইউপি সদস্য জয়গুণ নাহার যমুনাকে।
প্রকল্পের সাধারণ সম্পাদক জয়গুণ নাহার যমুনার অভিযোগ, প্রথম কিস্তির টাকা উত্তোলনের সময় তার স্বাক্ষর নেওয়া হলেও দ্বিতীয় কিস্তির কোনো কাগজে তিনি স্বাক্ষর করেননি। অথচ তার স্বাক্ষর জাল করে বিল উত্তোলন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমি দ্বিতীয় কিস্তির কোনো কাগজে স্বাক্ষর করিনি। আমার স্বাক্ষর জাল করে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’
জয়গুণ নাহার যমুনার স্বামী মো. বদিউজ্জামান জানান, প্রকল্পের কাজ চলাকালে কিংবা কাজ শেষে সভাপতি তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেননি। পরে বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ে গেলে তারা জানতে পারেন, দ্বিতীয় কিস্তির বিল ইতোমধ্যে ছাড় হয়েছে।
তার দাবি, ‘পিআইওকে মৌখিকভাবে জানানো হয় যে সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। তারপরও বিল কীভাবে অনুমোদন পেল, সেটিও তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।’
তিনি আরও বলেন, উপজেলা বাস্তবায়ন প্রকল্প কর্মকর্তা আবু সোয়েব খান ও প্রকল্পের সভাপতি ফারুক হাসানের যোগসাজশে এই অনিয়ম হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউপি সদস্য জানান, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সোয়েব খান এই কাজটি করেছেন বলে ইউনিয়নে বলাবলি হচ্ছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ও প্রকল্প সভাপতি মো. ফারুক হাসান বলেন, ‘আমি বহুবার ফোন করে সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করেছি। তিনি আসেননি এবং গুরুত্ব দেননি। তাই আমি তার স্বাক্ষর করে টাকা উত্তোলন করেছি।’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবু সোয়েব খান বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগটি সম্পূর্ণভাবে ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি মূলত দুই পক্ষের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধ। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি প্রকল্পের অর্থ উত্তোলনে জাল স্বাক্ষরের মতো গুরুতর অভিযোগ এবং অভিযুক্তের স্বীকারোক্তির পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন এলাকাবাসী।