মাদারীপুরের ব্যবসায়ী আলমগীর হাওলাদার হত্যা মামলার প্রধান আসামি জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক লাভলু হাওলাদার। বর্তমানে তিনি পুলিশের কাছে পলাতক হিসেবে রয়েছেন। তবে সম্প্রতি তাকে এক মাদকবিরোধী সমাবেশের মঞ্চে দেখা গেছে। যেখানে একই মঞ্চে ছিলেন মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া এবং সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ।
ইতোমধ্যে সেই সমাবেশের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়িয়ে পড়েছে। এরপর জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে নানা সমালোচনা। এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকে।
এদিকে মামলা করার পর নিহতের পরিবারকে নানা ধরনের হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাণে ভয়ে এলাকায় যেতে পারছেন না ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা।
মামলার বাদী ও নিহতের স্ত্রী রেখা বেগমের অভিযোগ, প্রধান আসামি রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে গ্রেপ্তার এড়িয়ে এলাকায় বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করছে না। তিনি দাবি করেন, আসামিরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ দিচ্ছেন, প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। এখন প্রাণের ভয়ে তারা অন্য এলাকায় থাকতে বাধ্য হয়েছেন।
নিহত আলমগীর হাওলাদারের ছেলে আল-আমিন হাওলাদার বলেন, ‘বাবার হত্যার বিচার চাইতে গিয়ে আমরা ঘরছাড়া। হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেও প্রধান আসামি জামিন পাননি। এরপরও তিনি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পুলিশকে একাধিকবার তথ্য দেওয়া হলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।’
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া জানান, তিনি ধারণা করেছিলেন লাভলু হাওলাদার আদালত থেকে জামিনে রয়েছেন এবং নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আমি কোনো অপরাধীকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিই না। তিনি জামিনে নেই—এ তথ্য আমার জানা ছিল না।’
এদিকে মামলার বাদীর পরিবারকে হুমকির অভিযোগের বিষয়ে জানতে লাভলু হাওলাদারকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘আপনি সামনাসামনি আসেন, অফিসে বসে কথা বলব।’
মাদারীপুর সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. মহসীন জানান, লাভলু হাওলাদার হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়েছেন বলে শুনেছেন, তবে এ সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র পুলিশ পায়নি। তিনি বলেন, ‘এই মামলায় অনেক আসামি আগাম জামিন নিয়েছেন, কিন্তু লাভলু হাওলাদারের নাম তাদের মধ্যে নেই। তিনি এখনো পুলিশের কাছে পলাতক আসামি। তাকে গ্রেপ্তারে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’
এ বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমি ব্যক্তি হিসেবে লাভলুকে চিনি না। মঞ্চে কারা ছিলেন, সেটিও আমার মনে নেই। তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা বলতে পারবেন।’
বাদীপক্ষকে হুমকির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।’
উল্লেখ্য, গত ১০ মার্চ মাদারীপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন মাদারীপুর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ী আলমগীর হাওলাদারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় লাভলু হাওলাদারকে প্রধান আসামি করে ৮৭ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়। ঘটনার পর এলাকায় একাধিক দফায় সংঘর্ষ, বোমা বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে, যাতে শতাধিক বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।