সিরাজগঞ্জে টানা চার দিন ধরে যমুনার পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত চার দিনে সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে নদীর পানি ৭৬ সেন্টিমিটার ও কাজীপুর পয়েন্টে ৮০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।
পানি বৃদ্ধির এ ধারায় নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষের মধ্যে বন্যা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে, তাৎক্ষণিক বন্যার আশঙ্কা না থাকলেও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে যমুনার পানি আরও নয় সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ৭৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সময়ে কাজীপুর পয়েন্টে পানি সাত সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল, অতিরিক্ত বর্ষণ এবং তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় পানি বাড়ার কারণে যমুনার পানি দ্রুত বাড়ছে।
পরের সাত দিনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, তাৎক্ষণিক বন্যার আশঙ্কা নেই। তবে পানি বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে ও আগামী কয়েক সপ্তাহ একইভাবে পানি বাড়তে থাকলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।
এদিকে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চরাঞ্চলের নিচু ফসলি জমি প্লাবিত হতে শুরু করেছে। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ইউনিয়নসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ জমি ইতোমধ্যে পানির নিচে চলে গেছে। তবে এখনো অধিকাংশ এলাকায় বসতবাড়িতে পানি প্রবেশ করেনি।
চৌহালী উপজেলার বাঘুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও শিক্ষক মো. আব্দুল জলিল বলেন, ‘গত এক মাসে নদীভাঙনে শতাধিক পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে।এরই মধ্যে নিচু এলাকা ও চরাঞ্চলের বেশিরভাগ অংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় নতুন করে দুর্ভোগের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।’
সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগও প্রস্তুতি নিয়েছে। সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. নুরুল আমীন জানান, জেলার ৮৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩১টিকে বন্যার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে কাজীপুরের সাতটি, সদর উপজেলার চারটি, বেলকুচির দুইটি, চৌহালীর পাঁচটি, শাহজাদপুরের আটটি ও উল্লাপাড়ার দুইটি ইউনিয়ন রয়েছে।
তিনি আরও জানান, জেলার নয়টি উপজেলায় নয়টি এবং ৮৩টি ইউনিয়নে ৮৩টি বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত জরুরি ওষুধ মজুদ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক প্রচারণাও চালানো হচ্ছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (ডিআরআরও) মো. আব্দুল বাছেদ বলেন, ‘নদীর পানি বাড়লেও এখনো জেলায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। তবে জেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে ও যেকোনো ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।’