কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বিষধর গোখরা সাপ ধরতে গিয়ে নিজেই সাপের ছোবলের শিকার হয়েছেন এক সাপুড়ে। পরে হাসপাতালে ভর্তি হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ শেষ না করেই হাসপাতাল ছেড়ে চলে গেছেন তিনি।
আহত ইমরান হোসেন ভেড়ামারা উপজেলার হিড়িমাদিয়া গোরস্তানপাড়া এলাকার মোশারফ হোসেনের ছেলে। তিনি নিজেকে ওঝা ও সাপুড়ে হিসেবে পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাপ ধরা, সাপে কামড়ের চিকিৎসা এবং বিভিন্ন রোগের কবিরাজি চিকিৎসার প্রচার করে আসছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিয়মিত সাপ ধরার ভিডিও প্রকাশ করতেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) উপজেলার গোলাপনগর ইউনিয়নের বাগগাড়িপাড়া এলাকায় আমিরুল ইসলামের একমাত্র ছেলে সম্রাট সাপের কামড়ে মারা যান। ওই ঘটনার পর শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাত ১০টার দিকে একই বাড়িতে আবারও একটি সাপ দেখা যায়। আতঙ্কিত পরিবারের সদস্যরা ইমরান হোসেনকে খবর দেন। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির উঠানের একটি গর্ত থেকে একটি বিষধর গোখরা সাপ বের করেন।
পরে সাপটি ধরার চেষ্টা করার সময় অসাবধানতাবশত সেটি ইমরানের হাঁটুর ওপরে ছোবল দেয়। স্থানীয় দুই যুবক দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন ইমরান। তবে রোববার (১৯ জুলাই) ভোরে চিকিৎসকদের পরামর্শ উপেক্ষা করে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা সম্পন্ন না করেই হাসপাতাল ত্যাগ করেন। পরে তিনি নিজ বাড়িতে চলে যান বলে জানা গেছে।
এদিকে, ঘটনার পর ইমরান হোসেনের একটি ভিজিটিং কার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে তিনি নিজেকে সাপুড়ে পরিচয় দিয়ে সাপ ধরা, সাপের বিষ ঝাড়া এবং বিভিন্ন জটিল ও গোপন রোগের চিকিৎসা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সমালোচনা করছেন।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘বিষধর সাপের কামড়ের পর আক্রান্ত ব্যক্তির হাসপাতালে থেকে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু ওই ব্যক্তি নিজের ইচ্ছায় হাসপাতাল ছেড়ে বাড়িতে চলে গেছেন। সাপের কামড়ের ঘটনায় কখনোই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া হাসপাতাল ত্যাগ করা উচিত নয়।’