বিশ্বকাপ ফাইনালের শুরু থেকেই নিজেদের আধিপত্য দেখাতে শুরু করেছে স্পেন। বলের দখল, পাসিং, আক্রমণ; প্রায় সব বিভাগেই এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনাকে চাপে রেখেছে লা রোজারা। অন্যদিকে লিওনেল মেসিদের আক্রমণও কয়েকবার আশার আলো দেখালেও তা সফল হতে দেয়নি স্প্যানিশ রক্ষণ।
ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই আর্জেন্টিনা এগিয়ে যাওয়ার বড় সুযোগ পেয়েছিল। তবে দ্রুত নিজের লাইন ছেড়ে সামনে এগিয়ে এসে লিওনেল মেসির নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করে দেন স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন।
প্রথম ২৩ মিনিটে আর্জেন্টিনা বলের দখলে ছিল মাত্র ৩২ শতাংশ সময়। এ সময়ে লিওনেল মেসি, নিকো গঞ্জালেজ ও হুলিয়ান আলভারেজ; এই তিন ফরোয়ার্ড মিলে মাত্র ১৭ বার বলে স্পর্শ করতে পেরেছেন।
স্পেনের মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণে ছিলেন অধিনায়ক রদ্রি। প্রয়োজন অনুযায়ী কখনো রক্ষণে তৃতীয় সেন্টার ব্যাকের ভূমিকায়, আবার কখনো মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ সাজিয়ে পুরো ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি। একই সঙ্গে আর্জেন্টিনার অর্ধে একের পর এক চাপ তৈরি করে স্পেন।
৩৯ মিনিটে স্পেন আরেকটি দারুণ আক্রমণ গড়ে তোলে। লাপোর্তে, রদ্রি ও অ্যালেক্স বায়েনার চমৎকার বোঝাপড়ার পর ফাবিয়ান রুইজ আলতো টোকায় বল বাড়িয়ে দেন মিকেল ওয়ারজাবালের কাছে। বক্সের প্রান্ত থেকে ওয়ারজাবালের জোরালো বাঁ পায়ের শট নিচে নেমে দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।
৪১ মিনিটে মিকেল ওয়ারজাবালকে ফাউল করে বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। দুই মিনিট পর ইনজুরির লক্ষণ দেখা দিলে তার বদলে মাঠে নামেন নিকোলাস ওতামেন্দি। একই সময়ে মার্ক কুকুরেয়ার আরেকটি ভালো প্রচেষ্টা অল্পের জন্য ডান পাশের পোস্ট ঘেঁষে মাঠের বাইরে চলে যায়।
প্রথমার্ধ শেষে বলের দখলে ছিল স্পেনের স্পষ্ট আধিপত্য। ৬৫ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে তারা, যেখানে আর্জেন্টিনার দখল ছিল ৩৫ শতাংশ। লক্ষ্যে স্পেনের দুটি শটের বিপরীতে আর্জেন্টিনা উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। পাসিংয়েও বড় ব্যবধানে এগিয়ে ছিল স্প্যানিশরা। আর্জেন্টিনার ১৫৫টি সফল পাসের বিপরীতে স্পেন করেছে ৩১৩টি সফল পাস।