পাবনার আটঘরিয়া উপজেলায় এবার পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। মাঠজুড়ে চলছে পাট কাটা, আঁটি বাঁধা ও খাল-বিল-জলাশয়ে জাগ দেওয়ার ব্যস্ততা। ইতোমধ্যে নতুন পাট বাজারে উঠতে শুরু করেছে। তবে এবার ভালো ফলন হলেও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন চাষিরা।
সোমবার (২০ জুলাই) উপজেলার একদন্ত, সুতির বিল, চাঁদভা, দেবোত্তর, মাঝপাড়া ও লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কৃষকরা তীব্র রোদ ও ভ্যাপসা গরম উপেক্ষা করে দিনভর পাট কাটার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কোথাও পাট কাটা হচ্ছে, কোথাও আঁটি বাঁধা হচ্ছে, কোথাও আবার কাঁধে করে পাট নিয়ে যাওয়া হচ্ছে খাল-বিল ও জলাশয়ে জাগ দেওয়ার জন্য। অনেকেই জাগ থেকে তুলে পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজেও ব্যস্ত রয়েছেন।
চাষিরা জানান, সময়মতো পাট কেটে জাগ না দিলে আঁশের গুণগত মান নষ্ট হওয়ার শঙ্কা থাকে। তাই নির্ধারিত সময়েই সব কাজ শেষ করার চেষ্টা করছেন তারা।
একদন্ত গ্রামের পাটচাষি আক্কেল আলী বলেন, বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের খরচ অনেক বেড়ে গেছে। এত ব্যয় করে চাষ করেও কৃষকের হাতে তেমন লাভ থাকছে না। কোনোরকম সংসার চলছে।
লক্ষ্মীপুর গ্রামের কৃষক খাইরুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ পাট দুই থেকে আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কৃষক বাঁচতে হলে অন্তত ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা দাম পাওয়া প্রয়োজন। ন্যায্যমূল্য না পেলে ভবিষ্যতে অনেকেই পাট চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন।
চাঁদভা গ্রামের কৃষক মজিদ প্রামাণিক বলেন, এবার ফলন ভালো হলেও দাম নিয়ে কৃষকদের উদ্বেগ রয়েছে। সরকার যদি পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করে, তাহলে কৃষকরা উৎসাহ নিয়ে পাট চাষ চালিয়ে যেতে পারবেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, গত বছরের তুলনায় এবার পাটের আবাদ বেড়েছে। চলতি মৌসুমে আটঘরিয়ায় ৪ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে, যেখানে গত বছর আবাদ হয়েছিল ৪ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে।
আটঘরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা মোতমাইন্না জানান, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘সঠিক সময়ে পাট কাটা এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে জাগ দেওয়া হলে উন্নতমানের আঁশ পাওয়া যায়। ভালো মানের আঁশ উৎপাদন করতে পারলে কৃষকরা বাজারে তুলনামূলক ভালো দামও পাবেন।’