জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) স্থায়ী ঠিকানা জামালপুর হলেও নিয়োগের সময় ঢাকার ঠিকানা ব্যবহার করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আতিকুজ্জামানের বিরুদ্ধে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর জেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মো. আতিকুজ্জামান ২০১৩ সালে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদে নিয়োগের সময় জেলা কোটার সুবিধা নিতে নিজের ঠিকানা হিসেবে ঢাকার দক্ষিণখান থানার মোল্লারটেক এলাকার একটি ঠিকানা ব্যবহার করেন। নিয়োগসংক্রান্ত নথিতে তার ঠিকানা উল্লেখ রয়েছে—বাড়ি নম্বর ৮৫, মোল্লারটেক, ডাকঘর আশকোনা, থানা দক্ষিণখান, জেলা ঢাকা।
তবে তার জাতীয় পরিচয়পত্রে স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ রয়েছে—গ্রাম তারাটিয়া, ডাকঘর তারাটিয়া বাজার, উপজেলা দেওয়ানগঞ্জ, জেলা জামালপুর।
জানা গেছে, অভিযুক্ত আতিকুজ্জামান জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার তারাটিয়া এলাকার বাসিন্দা এবং মো. আশরাফ হোসাইনের ছেলে। বর্তমানে তিনি জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, আতিকুজ্জামান একসময় দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার পাররামপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে। তার বাবা মো. আশরাফ হোসাইন স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। পরে ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে যোগ দেন। এছাড়া আতিকুজ্জামানের দুলাভাই মো. লেমন বর্তমানে পাররামপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
শিক্ষাগত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৮ সালের ১২ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণকারী আতিকুজ্জামান তারাটিয়া আলহাজ লাল মাহমুদ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০১ সালে এসএসসি এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০০৭ সালে চার বছর মেয়াদি কৃষি ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন। ২০১৩ সালে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। পরে দেওয়ানগঞ্জ ও মেলান্দহে দায়িত্ব পালন করে বর্তমানে মেলান্দহ উপজেলায় উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. আতিকুজ্জামান বলেন, ‘আমি একসময় ঢাকায় থাকতাম, তাই ওই ঠিকানা ব্যবহার করেছি।’ তবে জাতীয় পরিচয়পত্রে স্থায়ী ঠিকানা জামালপুর থাকা সত্ত্বেও নিয়োগের সময় ঢাকার ঠিকানা ব্যবহারের কারণ সম্পর্কে তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমি ছাত্রলীগ করেছি—এমন প্রমাণ কেউ দেখাতে পারবে না।’ তবে তার পরিবারের সদস্যদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে জামালপুর জজ আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. ইউসূফ আলী বলেন, সরকারি চাকরি পেতে ভুয়া তথ্য বা মিথ্যা ঠিকানা ব্যবহার করা গুরুতর অপরাধ। সরকারি চাকরি (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী এটি চাকরিচ্যুতিযোগ্য অপরাধ। পাশাপাশি দণ্ডবিধির ৪১৯, ৪২০, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারাসহ প্রযোজ্য আইনে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে ফৌজদারি মামলারও সুযোগ রয়েছে।
জামালপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আলম শরীফ খান বলেন, ‘এ ধরনের কোনো লিখিত অভিযোগ এখনো পাইনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে তথ্য গোপন বা অনিয়মের সত্যতা মিললে বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে।’