টানা বর্ষণ ও নদীর তীব্র স্রোতের কারণে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার পলাশবাড়ীয়া ইউনিয়নের দেউলী-ঝামা সড়কের একটি বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে চার গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দেউলী, যশোবন্তপুর, কালিশংকরপুর ও ঝামা এলাকার মানুষের একমাত্র যোগাযোগের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি ভয়াবহ নদীভাঙনের কবলে পড়েছে। ইতোমধ্যে সড়কের বড় একটি অংশ নদীতে বিলীন হওয়ায় যেকোনো সময় পুরো সড়কটি বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দেউলী, ঝামা, চরযশোমন্তপুর ও বনগ্রাম আদর্শ গ্রামের মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করেন। কিন্তু ভাঙনের কারণে সড়কটি এতটাই সংকুচিত হয়েছে যে, যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ। এমনকি পায়ে হেঁটেও চলাচল এখন ঝুঁকিপূর্ণ।
স্থানীয়রা জানান, সড়কটি বিলীন হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। এই সড়ক দিয়েই ঝামা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দেউলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ঝামা বরকাতুল উলুম ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসার শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন যাতায়াত করে। সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাওয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
ঝামা গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহিন বলেন, ‘রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ায় আমরা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছি। কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে গেছে। কৃষিপণ্য বাজারে নিতে পারছি না। সন্তানদের প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে পাঠাতে হচ্ছে। দ্রুত টেকসই গাইড ওয়াল বা নদীরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন।’
পলাশবাড়ীয়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মো. সেলিমুজ্জামান বলেন, ‘এই সড়কটি কয়েকটি গ্রামের মানুষের একমাত্র যোগাযোগের পথ। দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলা বা স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পুরো সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। এতে শিক্ষা, কৃষি ও স্থানীয় অর্থনীতি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।’
নদীভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদবর্তী মিস্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত জরুরি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি স্থায়ী ও টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’