এমপি গাজী নজরুলের অন্তরঙ্গ ভিডিও
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলামের একটি অন্তরঙ্গ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর জেলা জামায়াত এবং খোদ সংসদ সদস্য দাবি করেছেন, ভিডিওতে থাকা তরুণী তার বৈধ দ্বিতীয় স্ত্রী। তবে বিয়ের তারিখ এবং ভিডিও ধারণের সময়ের মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য মেলায় ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
ফ্যাক্টচেকিং অনুসন্ধান ও সিসিটিভি ফুটেজের টাইমস্ট্যাম্প অনুযায়ী, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি ২০২৩ সালের ১০ জুলাই ধারণ করা হয়েছিল। অথচ এমপির লিখিত দাবি অনুযায়ী তার দ্বিতীয় বিয়ে হয়েছে ২০২৬ সালের ১৭ জুন।
২০ জুলাই (সোমবার) ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান মাওলানা আজিজুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করেন, ভিডিওর নারী এমপি গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতেই পারিবারিকভাবে এই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করে দলটি।
পরবর্তী সময়ে গাজী নজরুল ইসলাম ফেসবুকে এক বিবৃতিতে দাবি করেন, ২০২৬ সালের ১৭ জুন তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার বাসভবনে এই বিয়ে সম্পন্ন হয়। তিনি অভিযোগ করেন, পারিবারিক শত্রুতার জেরে ওবায়দুল্লাহ নামে এক ব্যক্তি তাদের স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও গোপনে ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল ও রাজনৈতিক হেনস্তার উদ্দেশ্যে ছড়িয়ে দিয়েছে।
এমপির প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিবারও পৃথক ভিডিও বার্তায় এটিকে বৈধ বিয়ে দাবি করে অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
ভিডিওটি প্রথম প্রকাশ্যে আসার পর জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি একটি ভুয়া ভিডিও। তবে দেশের একাধিক তথ্য যাচাইকারী (ফ্যাক্টচেকিং) প্রতিষ্ঠান সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জানায়, ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি বা এডিটেড নয়।