বাগেরহাট শহরের ঐতিহাসিক গাজী কালুর দরগাহসংলগ্ন প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি খাস জমি অবৈধভাবে ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ড করে দখলের অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, বাগেরহাট শহরের কাপড়পট্টি এলাকার সরুই মৌজার এসএ ৭০১ নম্বর খতিয়ানের জমির পূর্ব মালিক ছিলেন জমিদার পূর্ণচন্দ্র রায়। পরে জমিটি সরকারের ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত হয়। ওই খতিয়ানের কয়েকটি দাগে প্রায় সাড়ে ১৭ শতাংশ জমির ওপর গড়ে উঠেছে ঐতিহাসিক গাজী কালুর দরগাহ, মসজিদ, খানকা, খাদেমের বসতঘর এবং দর্শনার্থীদের বিশ্রামাগার।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত সরকারের আমলে প্রভাব খাটিয়ে সেটেলমেন্ট অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তার মাধ্যমে সরকারি খাস জমির রেকর্ড পরিবর্তন করে ব্যক্তি মালিকানায় নামজারি করা হয়। এতে প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি সম্পত্তি ব্যক্তিদের দখলে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গাজী কালুর দরগাহের প্রধান খাদেম জামাল হাওলাদার বলেন, ‘দরগাহের জমি সরকারি খতিয়ানভুক্ত। কিন্তু প্রভাব খাটিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের নামে রেকর্ড করে নিয়েছেন বলে আমরা অভিযোগ করছি। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে জমি পুনরায় সরকারি খতিয়ানভুক্ত করা হোক। পাশাপাশি দরগাহের ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং এখানে একটি মসজিদ নির্মাণে সরকারের সহযোগিতা চাই।’
তিনি জানান, এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), খুলনা বিভাগীয় কমিশনার, বাগেরহাট জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি। এ কারণেই তারা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।
মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়, ডা. সিরাজুল হক, শ্যামল কুমার নাগ, বিজয় কৃষ্ণ হালদার, শেখ আছাদুল ইসলাম ও শেখ হাসানুল ইসলাম প্রভাব খাটিয়ে সরকারি খাস জমি নিজেদের নামে রেকর্ড করেছেন।
দরগাহের এক ভক্ত বলেন, ‘এটি শুধু একটি জমি নয়, বাগেরহাটের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ধর্মীয় সংস্কৃতির অংশ। সরকারি জমি দ্রুত উদ্ধার করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।’
এ দিকে অভিযোগ অস্বীকার করে ডা. সিরাজুল হক বলেন, ‘প্রায় ২০ বছর আগে আমরা নারায়ণ নাগের কাছ থেকে বৈধভাবে জমিটি কিনেছি। আমাদের কাছে বৈধ দলিলসহ সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে। দরগাহ কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ ও মামলা করলেও কোথাও তাদের দাবি প্রমাণিত হয়নি। আগামী ২২ জুলাই এ বিষয়ে একটি মামলার শুনানির তারিখ রয়েছে।’
অপর অভিযুক্ত শেখ শামসুল উদ্দিন বলেন, ‘এটি ব্রিটিশ আমলের সম্পত্তি। বৈধ দলিলের ভিত্তিতেই আমরা দীর্ঘদিন ধরে আইনগতভাবে জমি ভোগদখল করে আসছি। অবৈধ দখলের অভিযোগ ভিত্তিহীন।’
এ বিষয়ে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, ‘যেসব সরকারি খাস জমি বিভিন্নভাবে ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ড হয়েছে, সেগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের মাধ্যমে পুনরায় সরকারি খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রের সরকারি জমি আইনগত প্রক্রিয়ায় পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’