কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণ ও পাহার থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি টানা নয় দিন ধরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানির উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। একই সঙ্গে শাহজাদপুর, চৌহালী ও কাজীপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তীব্র নদীভাঙনে বসতভিটা, ফসলি জমি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এতে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের মানুষ।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় শহর রক্ষা বাঁধসংলগ্ন হার্ড পয়েন্টে যমুনার পানি ৯ সেন্টিমিটার এবং কাজীপুরের মেঘাইঘাট পয়েন্টে ৮ সেন্টিমিটার বেড়েছে। বর্তমানে হার্ড পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ৬১ সেন্টিমিটার এবং মেঘাইঘাটে ৯৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
স্থানীয়দের জানান, চলতি মাসেই চরগিরিশ এলাকায় অর্ধশতাধিক বাড়িঘর এবং বিস্তীর্ণ কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে পশ্চিম চরগিরিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরগিরিশ ফ্লাড সেন্টারসহ বহু বসতভিটা ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে।
শাহজাদপুর উপজেলার কুরসি গ্রামের বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বলেন, ‘গত দুই বছরে যমুনা আমার প্রায় ১৫ বিঘা জমি গ্রাস করেছে। এখন আমি প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছি।’
একই গ্রামের বাসিন্দা কৃষক আবুল হোসেন জানান, নদীভাঙনে তার ১০ বিঘা কৃষিজমি হারিয়ে পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে।
চৌহালী উপজেলার খাসপুকুরিয়া গ্রামের শাহিনুর বেগম বলেন, ‘দুই বছরে তিনবার ঘর সরাইতে হইছে। এখন আর যাওয়ার মতো কোনো জায়গা নাই।’
সদর উপজেলার কাওয়াকোল চরাঞ্চলের কৃষক আলী আহমেদ বলেন, ‘জমির সঙ্গে আমাদের স্বপ্নও যমুনার স্রোতে ভেসে যাচ্ছে।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীভাঙনের তীব্রতা আরও বেড়েছে। তারা সাময়িকভাবে জিও ব্যাগ ফেলার পরিবর্তে স্থায়ী নদীশাসন ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৮৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩১টি ইউনিয়ন বন্যা ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নদীভাঙনের শিকার হচ্ছে কাজীপুর উপজেলার চরগিরিশ এলাকা।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, ‘যমুনার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।’