পরিবেশগত ছাড়পত্র ও পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) ছাড়াই কক্সবাজারের মহেশখালী চ্যানেল থেকে বালু উত্তোলনের দায়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টোকিও-এমআইএলকে (জেভি) ৫০ লাখ ৩৭ হাজার ৭৮০ টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
রোববার (২০ জুলাই) পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চল কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত শুনানি শেষে এ জরিমানা আরোপ করা হয়। সোমবার (২১ জুলাই) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা।
পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চল কার্যালয়ের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সোনিয়া সুলতানা স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, পরিবেশ ও প্রতিবেশগত ক্ষতির ক্ষতিপূরণ হিসেবে নির্ধারিত ৫০ লাখ ৩৭ হাজার ৭৮০ টাকা আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানা গেছে, মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের (সওজ অংশ) আওতায় মাতারবাড়ী পোর্ট অ্যাক্সেস রোড নির্মাণকাজে ব্যবহারের জন্য টোকিও-এমআইএলকে (জেভি) মহেশখালী চ্যানেলের হামিদারদিয়া ও ঠাকুরতলা মৌজা এলাকা থেকে ৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫৯ হাজার ১৮২ ঘনফুট বালু উত্তোলনের অনুমোদন দেওয়া হয়। গত ২ এপ্রিল জেলা বালুমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি ১৩টি শর্তসাপেক্ষে এ অনুমোদন প্রদান করে।
অভিযোগ রয়েছে, অনুমোদনের পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটি পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) সম্পন্ন না করেই মহেশখালী চ্যানেল ও উপকূলীয় এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এছাড়া জেলা প্রশাসনের আরোপ করা ১৩টি শর্তের অধিকাংশই প্রতিপালন করা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ (ধরা)-এর কক্সবাজার জেলার আহ্বায়ক ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, স্থানীয় জনমত উপেক্ষা করে এবং যথাযথ পরিবেশগত মূল্যায়ন ছাড়াই বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে মহেশখালী চ্যানেল, উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য ও সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি পরিবেশ আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং বালু উত্তোলনের ক্ষেত্রে সব পরিবেশগত শর্ত নিশ্চিত করার দাবি জানান।