যশোরে প্রতিপক্ষের হামলায় শরিফুল ইসলাম জিতু নামে এক সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন। বুধবার (২২ জুলাই) রাত ১১টার দিকে শহরের বারান্দীপাড়ার ফুলতলা মোড়ে তাকে কুপিয়ে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখান থেকে রাতেই ঢাকায় রেফার করা হয়। ভোরে ঢাকায় যাওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্স নড়াইলে পৌঁছালে তার মৃত্যু হয়।
নিহত শরিফুল ইসলাম জিতু যশোর শহরের বারান্দীপাড়া মোল্লাপাড়া এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১৯টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে জিতু হত্যার ঘটনায় একই এলাকার সুমন মিয়া নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধেও ১১টি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার রাত ১১টার দিকে শহরের বারান্দীপাড়ার ফুলতলা মোড়ে দুর্বৃত্তরা জিতুকে কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ এ ফোন দিলে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মিতুকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানতে পেরেছে সুমনের স্ত্রীকে ধর্ষণ করতে গিয়ে জিতু এই হামলার শিকার হয়েছেন।
নিহতের বাবা সিরাজুল ইসলাম জানান, স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে তারা হাসপাতালে যান। যশোর হাসপাতালে তার ছেলের অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় রেফার করা হয়। পরে ঢাকায় নেওয়ার পথে জিতুর মৃত্যু হয়।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কাজী মাসুম রেজা বলেন, রাত ১২টার দিকে জিতুকে হাসপাতালে নিয়ে আসে পুলিশ। তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই ঢাকায় নিতে বলা হয়। ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথে ভোরে নড়াইলে তার মৃত্যু হয়। মরদেহটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান বলেন, এই ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি। তবে, ময়নাতদন্তের পর পরিবারের পক্ষ থেকে এজাহার দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) বলেন, নিহত জিতুর বিরুদ্ধে ১৯টি মামলা রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সুমন নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। আটক সুমনের স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার সময় জিতুকে কুপিয়ে জখম করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।