মাদারীপুর সদর থেকে মস্তফাপুর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে সাত কিলোমিটার সড়ক খানাখন্দে ভরে গেছে। কোথাও বড় বড় গর্ত, কোথাও উঠে এসেছে ঢালাইয়ের রড, কোথাও আবার খসে পড়েছে বিটুমিন। এতে চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে এই সড়কটি।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ২৫ কোটি ১০ লাখ ৮২ হাজার টাকা ব্যয়ে সড়কটির পূর্ণ পুনর্নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। জেলা সওজের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির কাজ করছে অরিয়েন্ট ট্রেডিং অ্যান্ড বিল্ডার্স লিমিটেড। চলতি বছরের মার্চে নির্মাণকাজ শুরু হলেও কয়েক মাসের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্ত, ফাটল ও দেবে যাওয়ার দৃশ্য দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং যথাযথ তদারকির অভাবেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইটেরপুল বাজার এলাকা। ঢালাইয়ের শুরু ও শেষাংশ মিলিয়ে প্রায় ২৫টি স্থানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। এছাড়া কাজীর মোড়, কলেজ মোড় এবং থানা রোডের পশ্চিম পাশেও বিটুমিন উঠে গিয়ে যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলো পানিতে ভরে যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়ে গেছে।
সড়কের এমন বেহাল অবস্থায় প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারী ও চালকদের। ধুলাবালি, খোঁড়াখুঁড়ি এবং যানজট এখন নিত্যদিনের সঙ্গী। স্থানীয়দের অভিযোগ, নতুন সড়ক ভেঙে আবার নির্মাণের নামে সরকারি অর্থের অপচয় করা হচ্ছে। তারা প্রকল্পের গুণগত মান ও ব্যয়ের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আলিম মাতুব্বর, সোহেল মাতুব্বর ও ইমাম হাওলাদার বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের গাফিলতির কারণেই প্রকল্পটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এর দায় শেষ পর্যন্ত জনগণকেই বহন করতে হচ্ছে।’
ইটেরপুল এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মোমিন বলেন, ‘শুরু থেকেই কাজের মান নিয়ে আপত্তি তুলেছিলাম। কিন্তু বিভিন্ন প্রভাবের কারণে সেই প্রতিবাদ গুরুত্ব পায়নি। এখন তার খেসারত দিচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দারা।’
স্থানীয় ব্যবসায়ী টুটুল বলেন, ‘কাজের সময় একাধিকবার সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আজ সড়কের এই অবস্থা তারই প্রমাণ।’
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
মাদারীপুর সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী খ. ম. নকীবুল বারি বলেন, ‘প্রকল্পের কাজ এখনো শেষ হয়নি। বৃষ্টির কারণে কিছু স্থানে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। জনগণের দুর্ভোগ কমাতে আমরা সাময়িক মেরামতের কাজ করছি। আমি প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর এখানে যোগদান করেছি। তাই আগের কাজের গুণগত মান নিয়ে মন্তব্য করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।’