গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ফেসবুকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তরুণদের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায়ের অভিযোগে দুই নারীসহ চার সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৫ জুলাই) রাত ৯টার দিকে উপজেলার বিশ্বাসপাড়া এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আটক নারী সদস্য পাপিয়া, তার স্বামী সজীব ও সহযোগী সুমু আক্তারসহ চক্রের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলতেন। পরে কৌশলে তাদের নির্জন স্থানে ডেকে এনে জিম্মি করে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হতো। এসব ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হতো।
পুলিশ জানায়, সায়মন নামের এক যুবকের সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয় পাপিয়ার। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময় সায়মনের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে পাপিয়া ফোন করে সায়মনকে কালিয়াকৈরের বিশ্বাসপাড়া এলাকার মদিনা ভবনের সপ্তম তলায় তার কক্ষে ডেকে নেন। সেখানে প্রবেশের পর দরজা বন্ধ করে পাপিয়া ও তার স্বামী সজীব সায়মনকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে সায়মন কৌশলে বারান্দায় গিয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। এ সময় পরিস্থিতি ভিন্নখাতে নিতে সজীব উল্টো সায়মনের বিরুদ্ধে তার স্ত্রীকে হেনস্তার অভিযোগ তোলেন। পরে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান।
খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই নারী ও দুই যুবককে আটক করে। এ সময় সজীবের কাছ থেকে পুলিশের একটি হ্যান্ডকাফ ও পুলিশ সদস্যদের ব্যবহৃত একটি কটি উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পরে আটক ব্যক্তিদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন তল্লাশি করে একই ধরনের প্রতারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগাযোগের তথ্য এবং বিভিন্ন আপত্তিকর আলামত পাওয়া গেছে বলে দাবি পুলিশের।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, আটক চারজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
তিনি আরও বলেন, অপরিচিত ব্যক্তির প্রলোভনে সাড়া না দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।