ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত প্রায় ২৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকার একটি কালভার্টের কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই কালভার্টের দুই প্রান্তের সংযোগ সড়কের ইটের সলিং দেবে গিয়ে ধসে পড়েছে। এতে নির্মাণকাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, কালভার্টের উভয় প্রান্তের সংযোগ সড়কের ইটের সলিং দেবে গিয়ে ইটগুলো ছড়িয়ে পড়েছে। যার কারণে ওই সড়ক দিয়ে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংযোগ সড়কে যথাযথভাবে মাটি ভরাট ও কম্প্যাকশন না করেই নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এছাড়া প্লাস্টার ও ফিনিশিংয়ের কাজ যথাযথভাবে না করে শুধু রং করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
বিএডিসি ঝালকাঠি জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নলছিটি উপজেলার মোল্লারহাট ইউনিয়নের মালুহার এলাকায় সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কালভার্ট নির্মাণে ২৪ লাখ ৭৬ হাজার ৫৪০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পটির কাজ ২০২৫ সালের মার্চ মাসে শুরু হয়ে জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল। এ প্রকল্পের বিপরীতে ২৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বিলও পরিশোধ করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, প্রকল্পটির মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দিনাজপুরের রামনগরের তারমিন এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানটি কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব সাব-ঠিকাদার হিসেবে ঝালকাঠি সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এজাজ হাসানকে দেয়।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থে নির্মিত একটি অবকাঠামো এত অল্প সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া নির্মাণকাজে গাফিলতির ইঙ্গিত দেয়। তারা প্রকল্পটির নির্মাণমান তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত টেকসইভাবে পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে সাব-ঠিকাদার এজাজ হাসান বলেন, কাজ যথাযথভাবেই করা হয়েছে। বর্ষার কারণে হয়তো সংযোগ সড়ক ধসে পড়েছে।
এ বিষয়ে বিএডিসি ঝালকাঠির সহকারী প্রকৌশলী মো. জামাল উদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কী কারণে এমন হয়েছে তা তদন্ত করা হবে। নির্মাণকাজে কোনো ত্রুটি পাওয়া গেলে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’