ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় রহিমা বেগম (৩০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পাঁচ মাসের মৃত ভ্রূণ অপসারণের সময় চিকিৎসকের পরিবর্তে একজন নার্স দিয়ে ডাইলেশন অ্যান্ড কিউরেটাজ (ডিএনসি) করানো হয়। এতে তার অভ্যন্তরীণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত রহিমা বেগম সরাইল উপজেলার সদর ইউনিয়নের সৈয়দটুলা গ্রামের পশ্চিমপাড়া বন্দের বাড়ির বাসিন্দা। তিনি সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক হেলাল মিয়ার স্ত্রী এবং দুই সন্তানের জননী।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ জুলাই পাঁচ মাসের মৃত ভ্রূণ অপসারণের জন্য সরাইল-নাসিরনগর সড়কের বড্ডাপাড়ার মনোয়ারা হাসপাতালে রহিমা বেগমকে ভর্তি করা হয়।
স্বজনদের দাবি, হাসপাতালটিতে চিকিৎসকের পরিবর্তে একজন নার্সের মাধ্যমে ডিএনসি করার সময় রহিমার অভ্যন্তরীণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে বিষয়টি গোপন রেখে রোগীর অবস্থা ভালো বলে দ্রুত বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বাড়িতে যাওয়ার পর তার পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে প্রথমে তাকে স্থানীয় ঘাটুরা মেডিকেলে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসক রহিমাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। পরে বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
বুধবার সন্ধ্যায় মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হাসপাতালের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে মানববন্ধনের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, চিকিৎসায় অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণেই রহিমা বেগমের মৃত্যু হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট হাসপাতালটির বিরুদ্ধে এর আগেও চিকিৎসাসেবা নিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে হাসপাতালটির লাইসেন্স পর্যালোচনাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে অভিযোগের বিষয়ে মনোয়ারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংবাদ লেখা পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।