মানিকগঞ্জের যমুনা নদীবেষ্টিত দুর্গম চরাঞ্চলে চুরি, ডাকাতি ও মাদক ব্যবসার মতো অপরাধ বাড়তে থাকায় জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুটি নতুন পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে জেলা পুলিশ। ফাঁড়ি দুটি স্থাপিত হলে প্রায় দুই লাখ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শিবালয় ও দৌলতপুর উপজেলার চারটি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে প্রায় দুই লাখ মানুষের বসবাস। ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা ও দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এসব এলাকায় কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারে না। যার কারণে চুরি, ডাকাতি, মাদক ব্যবসা এবং নৌপথে চোরাচালানের ঘটনা বাড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চরাঞ্চল থেকে মূল ভূখণ্ডে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম ইঞ্জিনচালিত নৌকা। নদী পার হতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগে। এ কারণে জরুরি পরিস্থিতিতেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।
শিবালয়ের চরআলোকদিয়া এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রায়ই চুরি ও ডাকাতির ঘটনা ঘটে। মাদকও এই পথেই আসে-যায়। পুলিশ দ্রুত আসতে পারে না, তাই সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয়। এখানে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি হলে নিরাপত্তা অনেক বাড়বে।’
দৌলতপুরের চরকল্যাণপুর এলাকার বাসিন্দা সালেহ উদ্দিন বলেন, ‘রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমানো যায় না। কোনো সমস্যা হলে থানায় খবর দিলেও পুলিশ আসতে অনেক সময় নেয়। দ্রুত ফাঁড়ি স্থাপন খুবই প্রয়োজন।’
আরেক বাসিন্দা জসিম উদ্দিন জানান, ফাঁড়ি স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হলেও এখনো অনুমোদন সম্পন্ন হয়নি। ফলে চরবাসীকে এখনো দূরের থানার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারোয়ার আলম (বিপিএম) বলেন, ‘শিবালয়ের আলোকদিয়া এবং দৌলতপুরের কল্যাণপুর চরে দুটি স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জায়গা নির্ধারণের পর প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। স্থানীয়দের দাবি বিবেচনায় বিষয়টি ইতিবাচকভাবে এগোবে বলে আশা করছি।’
মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর বলেন, ‘দুর্গম চরাঞ্চলে পুলিশের উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেলে অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। নতুন এই দুটি পুলিশ ফাঁড়ি চালু হলে মাদক ও অবৈধ পণ্যের চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে আসবে।’