জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত গণহত্যার বিচার দাবিতে চুয়াডাঙ্গায় গণমিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
শনিবার (২ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চুয়াডাঙ্গা সদর থানা শাখার উদ্যোগে শহরের শহীদ আবুল হাসান চত্বরে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে একটি গণমিছিল বের হয়ে শহীদ আবুল কাশেম সড়ক প্রদক্ষিণ করে টাউন ফুটবল মাঠে গিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাডভোকেট মো. রুহুল আমিন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে গণভোটের রায় এবং জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন জরুরি। একই সঙ্গে গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত সব গণহত্যার দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, দেশকে লুটপাট ও অর্থপাচারের দেশে পরিণত হতে দেওয়া হবে না এবং রাতের ভোটের সংস্কৃতিও আর ফিরে আসতে দেওয়া হবে না।
জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সরকারকে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যথায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে।
রুহুল আমিন আরও বলেন, জুলাই সনদ কোনো রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা নয়, এটি জনগণের দাবি। অবাধ, সুষ্ঠু ও টেকসই নির্বাচন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য জুলাই সনদের বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান বলেন, গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি দাবি করেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে এখনো সুযোগ রয়েছে এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে জনগণ তা মেনে নেবে না।
তিনি আগামী ৫ আগস্ট কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসূচি সফল করতে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ওইদিন চুয়াডাঙ্গার শহীদ আবুল হাসান চত্বরে কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
গণমিছিলে জেলা, উপজেলা, পৌর ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেন। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা বেলাল হোসাইন, জেলা প্রচার সম্পাদক মো. মফিজুর রহমান, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী আনোয়ারুল হক মালিক, পৌর জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট হাসিবুল ইসলাম, পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি মো. মোস্তফা কামাল, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. সাগর আহমেদসহ জেলা, উপজেলা, পৌর ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।