হবিগঞ্জ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দায়ের করা মামলায় জামিন পেয়েছেন জেলা ছাত্রদল সভাপতিসহ ১১ নেতা। রোববার (২ আগস্ট) হবিগঞ্জের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল মান্নান তাদের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। এর আগে তারা আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন।
আদালত থেকে জামিন পেয়েই ছাত্রদল সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন বলেন, ‘যদি ঘটনায় আমার সম্পৃক্ততা প্রমাণ করতে পারে তবে রাজনীতি ছেড়ে দেব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বরাবরই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এনসিপির বন্ধুরা একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় আমাকেও জড়ানো হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। মামলার কোথাও ঘটনার তারিখ, সময় ও স্থানের উল্লেখ নেই। আসামিদের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগও নেই। হাতে লেখা একটি অভিযোগ দিয়ে মামলা দায়ের করেছেন। আমি মনে করি এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমাদের হেয় করাই মূল উদ্দেশ্য।’
রিংগন আরও বলেন, ‘একটি জিনিস মনে রাখতে হবে, কাউকে অযথা হেয় করতে গেলে নিজেই কিন্তু হেয় হতে হয়। আমি এনসিপির বন্ধুদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছি যে, সংঘর্ষের ঘটনায় যদি আমার সম্পৃক্ততা তারা প্রমাণ করতে পারেন তবে রাজনীতি ছেড়ে দেব।’
তাদের জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করে আসামিপক্ষের আইনজীবী কুতুব উদ্দিন জুয়েল বলেন, ‘মামলায় ঘটনার সময়, তারিখ ও স্থান উল্লেখ নেই। আসামিদের বিরুদ্ধেও কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগের উল্লেখ নেই। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিচারক তাদের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন।’
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিনব্যাপী হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ ও জেলা শহরে এনসিপির কর্মসূচি ছিল। এতে এনসিপির নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের কটাক্ষ করে বক্তব্য দেন বলে অভিযোগ ওঠে। সন্ধ্যায় জেলা শহরের সমাবেশ শেষ করে পাটওয়ারী ও সারজিস আলম সার্কিট হাউজের উদ্দেশে রওনা হন। পথে কোর্ট মসজিদের সামনে পৌঁছলে তাদের গাড়িবহরে একদল যুবক হামলা করেন। একপর্যায়ে সারজিস আলমসহ নেতাকর্মীরা সোনালী ব্যাংকের প্রধান শাখায় গিয়ে আশ্রয় নেন। তখন দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। এতে অন্তত ২০ জন আহত হন।
এ ঘটনায় বুধবার রাতে এনসিপির ছাত্র সংগঠন জেলা ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের রুবেল বাদী হয়ে জেলা ছাত্রদল সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও অজ্ঞাত ১০০ জনের বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় একটি মামলা করেন।