শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামীর কর্মসূচিতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় হামলার ভিডিও ধারণ করায় স্থানীয় এক সাংবাদিককে মারধর করা হয়।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে জাজিরা উপজেলা মডেল মসজিদ প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে। এরপর জেলার সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জাজিরা উপজেলা জামায়াতে ইসলামী মডেল মসজিদ প্রাঙ্গণে গণমিছিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করে। একই সময়ে টিএন্ডটি মোড় এলাকায় পৃথক কর্মসূচি পালন করছিল বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
অভিযোগ রয়েছে, জামায়াতের নেতাকর্মীরা গণমিছিল শুরুর আগে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের কিছু নেতাকর্মী মডেল মসজিদ এলাকায় প্রবেশ করে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে জামায়াতের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
হামলার সময় ঘটনাস্থলে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন বিজয় টিভির জাজিরা প্রতিনিধি জুয়েল মিয়া। তার অভিযোগ, তিনি হামলার ভিডিও ধারণ করছিলেন। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি তার ওপর চড়াও হয়ে মারধর করেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
শরীয়তপুর জেলা জামায়াতের আমির মুহাম্মদ আব্দুর রব হাসেমী বলেন, প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই তারা কর্মসূচির আয়োজন করেছিলেন। বিএনপিও তাদের নির্ধারিত স্থানে কর্মসূচি পালন করছিল। কোনো উসকানি ছাড়াই বিএনপির নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান মিলনকে দায়ী করে তিনি জানান, হামলার ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।
এ দিকে হামলায় আহত সাংবাদিক জুয়েল মিয়া এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জাজিরা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান মিলন। তিনি বলেন, মিছিলের সামনের সারিতে থাকলেও হামলার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। কে বা কারা হামলা করেছে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
জাজিরা উপজেলা বিএনপির সভাপতি বজলুর রশিদ শিকদার বলেন, উপজেলা চত্বরে দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটির জেরে সামান্য উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। সাংবাদিক জুয়েল মিয়া সেখানে ভিডিও ধারণ করছিলেন। তিনি বলেন, হামলার ঘটনায় দলের কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে শরীয়তপুর জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের স্টাফ রিপোর্টার নুরুল আমীন রবিন। তিনি বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে কোনো সাংবাদিকের ওপর হামলা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জনগণের তথ্য জানার অধিকারের ওপর আঘাত। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মেদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। একজন সাংবাদিক মারধরের শিকার হয়েছেন বলেও জানা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।