বৈদ্যুতিক খুঁটির মাঝ বরাবর ভেঙে গেছে। তাই খুঁটিটিকে দাঁড় করিয়ে রাখতে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। আর এই খুঁটির মাধ্যমে হচ্ছে বিদ্যুৎ সরবরাহ। ঘটনাটি টাঙ্গাইল পৌরসভার কাগমারা ইসলামবাগ এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইল পৌরসভার বেড়াডোমা থেকে মির্জা মাঠ পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণের সময় কাগমারা ইসলামবাগ এলাকায় আমিনুল ইসলামের বাড়ির সামনে মাটি ভরাটের কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক বিদ্যুতের খুঁটিতে ধাক্কা দেয়। এতে মাটি থেকে আনুমানিক আট ফুট ওপর থেকে খুঁটিটি ভেঙে যায়। পরে খুঁটির উপরের অংশ পাশের একটি মেহগনি গাছের ওপর হেলে পড়ে।
বাড়ির মালিক আমিনুল ইসলাম জানান, বিষয়টি রাস্তা নির্মাণের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনকে জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। পরে বিদ্যুৎ অফিসে আবেদন করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে ভাঙা খুঁটির উপরের অংশ মেহগনি গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে যান। একই সঙ্গে নতুন খুঁটি স্থাপন করা হবে বলে জানানো হয়। তবে প্রায় দুই মাস পার হলেও নতুন খুঁটি স্থাপন করা হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা মিরাজুল বলেন, ‘প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে। পাশাপাশি কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষও যাতায়াত করেন। হালকা বাতাসে কিংবা গাছের ডালপালা নড়াচড়া করলে খুঁটির বাঁধন ছিঁড়ে বিদ্যুতের তারসহ সেটি রাস্তায় পড়ে যেতে পারে। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।’
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু থাকায় তারা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে হতাহত কিংবা অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটতে পারে। তারা দ্রুত ভাঙা খুঁটি অপসারণ করে নতুন খুঁটি স্থাপন এবং নিরাপদ বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) টাঙ্গাইলের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২-এর সহকারী প্রকৌশলী মো. আহসান ইবনে আজিজ বলেন, ভাঙা খুঁটির বিষয়ে কয়েকজন এসে অভিযোগ করেছেন। টাঙ্গাইল পৌরসভা থেকে রাস্তা নির্মাণের সময় নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ট্রাকের ধাক্কায় খুঁটিটি ভেঙে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, গত ২ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইল পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমানের স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে রাস্তা প্রশস্তকরণের কারণে বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থানান্তরের প্রয়োজনীয়তার কথা জানানো হয়েছিল। এ জন্য গত ৫ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বেড়াডোমা খালপার রোডে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার জন্যও চিঠি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে রাস্তা নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ট্রাকের ধাক্কায় খুঁটিটি ভেঙে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলেও পৌরসভা কিংবা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে এ বিষয়ে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি।
আহসান ইবনে আজিজ আরও বলেন, বিদ্যুৎ আইনের ৩৯ ধারা অনুযায়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র, উপকেন্দ্র, বিদ্যুৎ লাইন বা খুঁটি ভেঙে ফেললে অভিযুক্ত ব্যক্তির সাত থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড অথবা ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড হতে পারে। পৌরসভা কিংবা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যোগাযোগ করে সহযোগিতা করলে দ্রুত সময়ের মধ্যে খুঁটি পরিবর্তন করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
টাঙ্গাইল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাজাহান আলী বলেন, বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিউবোর টাঙ্গাইলের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান বলেন, খুঁটি ভাঙার বিষয়টি জানানো হলে তখন তাদের দুই মাস পর কাজ করা যাবে বলে জানানো হয়েছিল। বর্তমানে ছবিসহ আবেদন করা হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।