‘সুখের আশায় ছেলেগুলাক বিদেশ পাঠাইছিনু। এখন মনে হছে, দেশত থাকলে কষ্ট হলেও ছেলেগুলো জীবত থাকত; হামার চোখের সামনে থাকত। আল্লাহ হামার এ কোন পরীক্ষা নিল?’ এভাবেই বিলাপ করতে করতে কথাগুলো বলছিলেন সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত মোহন ও সুমনের বাবা গুফফার প্রামাণিক।
জানা গেছে, সৌদি আরবের রিয়াদের মানফুয়া এলাকার একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৩ জনের বাড়ি নওগাঁয়। তাদের মধ্যে ১২ জন আত্রাই উপজেলার এবং একজন নওগাঁ সদর উপজেলার বাসিন্দা। স্বজনেরা রোববার (৯ আগস্ট) রাতে তাদের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল থেকে নিহতদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।
নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আজ সকাল ৯টার দিকে ১৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।
সকালে আত্রাই উপজেলার গন্ডগোহালি, উজানপৈ ও ডুবাই গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, নিহত ব্যক্তিদের বাড়িতে স্বজনদের আহাজারি চলছে। এই তিনটি গ্রামেই সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গন্ডগোহালি গ্রামের চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই এলাকার এতজন প্রবাসীর একসঙ্গে মৃত্যুতে গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
গন্ডগোহালি গ্রামের গুফফার প্রামাণিকের দুই ছেলে মহন প্রামাণিক ও সুমন প্রামাণিক একই কারখানায় কাজ করতেন। তাদের চাচা সামাদ প্রামাণিক বলেন, সাত বছর আগে বাড়ির জমি বন্ধক রেখে সৌদি আরবে যান মহন। সেখানে কাজ করে আয় করা টাকা দিয়ে বন্ধক রাখা জমি ছাড়িয়ে নেন। দুই বছর আগে ছোট ভাই সুমনকেও সৌদি আরবে নিয়ে যান। দুই ভাই একই কারখানায় কাজ করতেন।
সামাদ প্রামাণিক আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘কেবল ওদের সংসারে একটা সুখের দেখা মিলেছিল। কিন্তু সেই সুখ আর বেশি দিন রইল না।’
নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত ও লাশ দেশে আনার বিষয়ে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ উইং কাজ করছে বলে জানান নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘যথাযথ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে লাশ দ্রুত দেশে আনার জন্য সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে চেষ্টা চলছে। তবে সব প্রক্রিয়া শেষ করে লাশ দেশে আসতে কিছুদিন সময় লাগতে পারে। সৌদি দূতাবাস ও নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।’