চট্টগ্রামে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের বাসভবনে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। এ সময় বাসভবনে থাকা সাতজনকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (১২ নভেম্বর) নগরীর ২ নম্বর গেইট এলাকার চশমা হিল সংলগ্ন চারতলা বাড়িতে এই অভিযান চালায় মহানগর পুলিশ (সিএমপি)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে যোগ দেয়ার জন্য কয়েকজন এখানে জড়ো হচ্ছেন বলে একটি ফেসবুকে পোস্টে বলা হয়। সেটির সূত্র ধরে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে আটক ব্যক্তিদের পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্টের পর নওফেলের বাড়িটি দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ ছিল। তবে সম্প্রতি হঠাৎ মানুষের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। মেয়রগলি সংলগ্ন ওই চারতলা বাড়িতে প্রতিদিন ফুড পার্সেল আসছে এবং গার্ডদের আচরণেও পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
স্টুডেন্ট এলায়েন্স ফর ডেমোক্রেসির আহ্বায়ক তৌহিদ ইসলাম তার ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, ‘চিটাগংয়ে লীগের সময় লীগের পাওয়ার হাউজ ছিল নওফেলের চশমা হিলের বাড়িটা। ৫ আগস্টের পর কয়েক মাস এটা তালাবদ্ধ ছিল। ইদানীং হঠাৎ করে এই বাড়িতে মানুষের আনাগোনা বাড়ছে এবং চারতলা বাড়িটা আবার সচল হয়ে উঠছে। মনে হচ্ছে, এখানে নতুন কোনো ছক আঁকা হচ্ছে—নতুবা হঠাৎ এত মানুষের আনাগোনা কেন?’
মেয়রগলি এলাকার বাসিন্দা কেফায়েত উল্লাহ মন্তব্য করেছেন, ‘প্রায়ই ফুড পার্সেল আসতে দেখি। আগের গার্ডরা এত ফুড অর্ডার করতো না, দুধের গাড়ি ছাড়া অন্য কিছু দেখা যেত না।’
আরেকজন স্থানীয় তরুণ আবির বিন জাবেদ তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘দুই নাম্বার গেইট মেয়র গলির নওফেলের বাসায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগ সন্ত্রাসীরা নিয়মিত মিটিং করছে। প্রতিদিন প্রচুর খাবারের পার্সেল আসে ওই বাসায়। আগামীকাল ১৩ তারিখকে কেন্দ্র করে ওরা বাসায় বৈঠক বাড়িয়েছে।’
উল্লেখ্য, আগামীকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় ‘লকডাউন কর্মসূচি’ ঘোষণা করেছে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগ। এই কর্মসূচির সমর্থনে ১০ নভেম্বর থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিল করতে দেখা গেছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী জানিয়েছেন, এসব মিছিল থেকে অগ্নিসংযোগ, বাসে আগুন, ককটেল বিস্ফোরণ ও পেট্রোল বোমা নিক্ষেপের অন্তত ২৫টি ঘটনা ঘটেছে। শুধু গত ১১ দিনে দেশে ১৭টি ককটেল বিস্ফোরণ এবং ৯টি যানবাহনে আগুন দেওয়ার ঘটনা রেকর্ড হয়েছে।
চট্টগ্রাম নগরীতেও গত কয়েকদিন ধরে আওয়ামী লীগের কর্মীদের ঝটিকা মিছিল দেখা গেছে, এবং পুলিশ বিভিন্ন অভিযানে বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে।
ঢাকা ও চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। ১৩ নভেম্বরের কর্মসূচি ঘিরে যেকোনো অস্থিতিশীলতা ঠেকাতে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের যৌথ টহল জোরদার করা হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।