কিউবার বিরুদ্ধে আবারও কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কিউবার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের পরিকল্পনাও করছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক অভিযানের পর থেকেই কিউবাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ভেনেজুয়েলার ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়ায় কিউবার ওপর চাপ বাড়াতে শুরু করেছে ওয়াশিংটন। ইতোমধ্যে কিউবায় ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে, যা দেশটির অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘কোনো দেশ যদি কিউবায় তেল সরবরাহ করে, তাহলে তাদের ওপর শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করা হবে।’
তিনি আরও দাবি করেন, কিউবা সরকার দুর্বল হয়ে পড়েছে, প্রয়োজন হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এমনকি কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেলকে আটক করার মতো অভিযান চালানোর ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।
এদিকে রুশ গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, কিউবায় অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তন আনতেই এই চাপ বাড়ানো হচ্ছে। ওয়াশিংটন নাকি কিউবার সাবেক নেতা রাউল কাস্ত্রোর নাতির সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র কিউবায় নিজেদের পক্ষে নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার পথ খুঁজছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার বিরোধ নতুন নয়। ১৯৬১ সালের ব্যর্থ ‘বে অব পিগস’ অভিযানের পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক উত্তপ্ত। পরে বারাক ওবামা সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিলেও ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে সেই নীতি বাতিল করেন ও নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিউবা ইস্যু এখনো মার্কিন রাজনীতিতে অত্যন্ত সংবেদনশীল। বিশেষ করে ফ্লোরিডার কিউবান অভিবাসীদের ভোট রাজনীতিতে বড় ভূমিকা রাখে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কিউবার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে শুধু দুই দেশের সম্পর্ক নয়, পুরো লাতিন আমেরিকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।