আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য (এমপি) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বগুড়ার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ১৪ নেতা দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে তারা আগেই তৃণমূলে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) ছিল এনসিপির মনোনয়ন ফরম বিক্রির শেষ দিন। দলটি ৬ নভেম্বর থেকে ফরম বিক্রি শুরু করে। আগামী ১৫ নভেম্বর প্রার্থী তালিকা প্রকাশের কথা রয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বগুড়ার সাতটি আসন থেকে মোট ১৪ জন সম্ভাব্য প্রার্থী ফরম উত্তোলন করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী রাফিয়া সুলতানা রাফি।
মনোনয়ন ফরম উত্তোলনকারীদের মধ্যে রয়েছেন—
বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা): সাইফুল ইসলাম বুলবুল, গোলাম রাব্বী হাসান (ফুলবাবু), রাকিবুল সানি
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ): জাহাঙ্গীর আলম
বগুড়া-৩ (আদমদিঘী-দুপচাচিয়া): অ্যাডভোকেট ইজাজ আল ওয়াসী জ্বিম
বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম): ইঞ্জিনিয়ার সারোয়ার হোসেন রনি, মো. সৈকত আলী
বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট): ড. মেহেরুল আলম মিশু, ইয়াসিন আলী হিমেল, খোকন মাহমুদ
বগুড়া-৬ (সদর): ডা. মো. এনামুল হক বাবু বিশ্বাস, ডা. আবদুল্লাহ আল সানী, মেহেদুল হাসান স্বপন, মুফতি আনাস খান
এদিকে বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে প্রার্থী হওয়ার কথা থাকলেও, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় সম্মান জানিয়ে রাফিয়া সুলতানা রাফি মনোনয়ন উত্তোলন করেননি।
মনোনয়ন ফরম উত্তোলনকারী নেতাদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘দল আমাকে যোগ্য মনে করলে মনোনয়ন দেবে। আমি অনলাইনে ফরম সংগ্রহ করেছি।’
গোলাম রাব্বী হাসান (ফুলবাবু) বলেন, ‘ক্ষমতা নয়, সেবা আমার রাজনীতি। বগুড়া-১ আসনে উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করাই আমার লক্ষ্য।’
জাহাঙ্গীর আলম জানান, ‘এই আসনে একক প্রার্থী হিসেবে আমি ফরম তুলেছি। মনোনয়ন পেলে জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী।’ তিনি আরও বলেন, ‘দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ, বৈষম্যহীন সমাজ, কৃষি-শিল্পে অগ্রগতি, বেকারত্ব দূরীকরণ ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে আমি মাঠে কাজ করব।’
জেলা এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী রাফিয়া সুলতানা রাফি বলেন, ‘১৪ সম্ভাব্য প্রার্থী ইতোমধ্যে ফরম উত্তোলন করেছেন। যাচাই-বাছাই শেষে প্রতিটি আসনে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।’
জেলা প্রধান সমন্বয়কারী সাকিব মাহদী বলেন, ‘আমরা সব আসনেই প্রার্থী দেওয়ার চেষ্টা করছি। পাশাপাশি বিভিন্ন উপজেলায় অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে, তারা চাইলে এনসিপিতে যোগ দিয়ে প্রার্থী হতে পারবেন।’