লালমনিরহাটে ধরলা নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, আবাদি জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জিও ব্যাগ ফেললেও ভাঙনরোধ হচ্ছে না। উল্টো ভাঙন প্রতিরোধী জিও ব্যাগও তলিয়ে যাচ্ছে নদীতে। স্থানীয়দের দাবি, অস্থায়ীভাবে ভাঙন রোধের চেষ্টা না করে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করার।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে ধরলা নদী। বর্তমানে নদীটিতে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীর দুই তীরে ভাঙনে ওই ইউনিয়নের শিবেরকুটি, বাসুরিয়া, কুরুল, ফলিমারীসহ ১০টি গ্রামের ফসলি জমি, বসতভিটাসহ বিভিন্ন স্থাপনা বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন হুমকিতে রয়েছে ওইসব গ্রামের শতাধিক বাড়িঘর। নদীটির উভয় তীরে ১১ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দেখা দিয়েছে এ ভাঙন। লালমনিরহাট পাউবো বালু ভর্তি জিও ব্যাগ দিয়ে ভাঙনরোধের চেষ্টা চালাচ্ছে।
নদীপাড়ের বাসিন্দা শামসুর রহমান ও এনামুল হক বলেন, নদীতে আমাদের বসতভিটা ও আবাদি জমি চলে গেছে। আমরা ইতোমধ্যে আমরা পাঁচবার করে বাড়ি সরিয়েছি। এখন সড়কের ধারে বসবাস করছি। ভাঙন থেমে নেই। এদিকে পাউবো কাজ করলেও পানির স্রোত আর বাতাসের কারণে অস্থায়ীভাবে এ ভাঙনরোধ কাজে আসছে না। ফলে দুঃশ্চিন্তায় রয়েছেন ওইসব গ্রামের ২০ হাজার মানুষ।
ধরলা পাড়ের হাজেরা বেওয়া অক্ষেপ নিয়ে জানালেন, ‘কি বাহে দীর্ঘদিন থাইকা শুধু তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা শুনেই আসিচ্ছি। হামাগো (আমাদের) জীবনের শেষ পর্যায় এসে গেছে, কিন্তু কাজের বাস্তবায়ন দেখছি না। সরকারের কাছে অনুরোধ দ্রুত যেন নদীখননের কাজটি শুরু হয়। আমরা আর ত্রাণ চাই না, চাই স্থায়ী সমাধান। তাহলে আমাদের আবাদি জমিসহ বসত বাড়ি ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা পাবে।’
লালমনিরহাট পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার রায় জানান, ধরলা নদীর ভাঙন কবলিত ১১ কিলোমিটার এলাকায় স্থায়ীভাবে কাজের জন্য একটি প্রকল্প তৈরি করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেটি পাস হয়ে আসলে আমরা কাজ শুরু করব। স্থায়ীভাবে ধরলা নদীর ভাঙনরোধ করে জমি জায়গা, বাড়িঘরসহ স্থাপনা রক্ষার দাবি স্থানীয়দের।