চুয়াডাঙ্গার সন্তোষপুর এলাকায় জীবননগর–দর্শনা মহাসড়কে পূর্বাশা পরিবহনে সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় যাত্রীদের কাছ থেকে নগদ অর্থ, মোবাইলফোন ও মূল্যবান মালামাল লুট করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরে ৭ থেকে ৮ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাতদল প্রথমে রাস্তার পাশে থাকা দুটি গাছ কেটে মহাসড়কে ফেলে ব্যারিকেড তৈরি করে। এরপর একটি পিকআপ ভ্যান (ঢাকা মেট্রো ন–১২৪৩২০) থামিয়ে চালকের কাছ থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। সেই পিকআপটিকেই মহাসড়কে রেখে আরেকটি বড় পরিবহন থামানোর ফাঁদ তৈরি করা হয়।
পরে রাত ১০টায় ঢাকা থেকে ছাড়ানো পূর্বাশা পরিবহন (ঢাকা মেট্রো ব–১৫–৫২৪১) ভোর পাঁচটার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ডাকাতদল বাসের গতি রোধ করে। চাপাতি–দা হাতে সশস্ত্র ডাকাতরা বাসে উঠে প্রথমে চালক ফয়সালকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর বাসটিকে আন্দুলবাড়িয়া বাইপাস সড়কের ইকো পার্ক এলাকার সামনে নিয়ে যায়।
সেখানে যাত্রীদের কাছ থেকে প্রায় ৩০–৪০ হাজার টাকা, মোবাইল ফোন ও সঙ্গে থাকা মূল্যবান সামগ্রী লুট করে ডাকাতরা। এসময় বাসের দুটি সিট ভাঙচুরও করা হয়। তবে যাত্রীদের কেউ গুরুতর আহত হননি। স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্তোষপুর এলাকায় বারবার ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন তা দমনে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না। এ কারণে এই রুটে চলাচলকারী যানবাহন নিয়মিত ঝুঁকির মুখে থাকে।
ঢাকাগামী পরিবহনের চালক–সুপারভাইজাররা জানান, ভোর না হলে তারা জীবননগর অভিমুখে রওনা দিতে সাহস পান না। মাঝরাতে তারা সাধারণত দলবদ্ধভাবে যাত্রা করেন। কোনো কোনো সময় কালীগঞ্জ থানা তাদের প্রটোকল দিয়ে কোটচাঁদপুর পর্যন্ত এগিয়ে দেয়। জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন হোসেন বিশ্বাস জানান, ভোর ৪টা পর্যন্ত থানা পুলিশ টহলে ছিল। ফজরের আজানের সময় তারা টহল শেষে ফিরে আসে। সম্ভবত সেই সময়ের সুযোগ নিতেই ডাকাতদল সক্রিয় হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকাবাসী দ্রুত ডাকাতচক্রকে গ্রেপ্তার করে সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।