ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার লঞ্চঘাট–ফেরিঘাট সড়কের থানার খালের ওপর নির্মিত আড়াই কোটি টাকার সেতুটি দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো ব্যবহারযোগ্য হয়নি। সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় এটি পুরোপুরি অচল পড়ে আছে। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে কাঠের মই বেয়ে সেতুতে ওঠা–নামা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্মাণের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কাজের অনিয়মই তাদের এই দুর্ভোগের কারণ।
এলজিইডির নলছিটি কার্যালয় জানায়, আইবিআরপি প্রকল্পের আওতায় ২০২২ সালের ২ মে ৩১ মিটার দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ২ কোটি ৪৬ লাখ ৩ হাজার ৩১৯ টাকা। প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ পায় মেসার্স শান্ত এন্টারপ্রাইজ। এক বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও সংযোগ সড়কের কাজ শুরুই হয়নি। ফলে নির্মিত সেতুটি দাঁড়িয়ে আছে কার্যত ব্যবহারের অযোগ্য অবস্থায়।
সরেজমিন দেখা যায়, সেতুর দুই প্রান্তে মাটি ভরাট না থাকায় সেতুর গোড়া উঁচু হয়ে রয়েছে। তাই সেতুতে উঠতে বা নামতে কাঠের তৈরি অস্থায়ী মই ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিনই বয়স্ক মানুষ, শিশু ও শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল রাজ্জাক বলেন, ‘এই সেতু নির্মাণের পর ভেবেছিলাম আর কাদা–পানির দুর্ভোগ থাকবে না। কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি কোনো কাজেই লাগছে না। বরং এখন আরও বেশি ঝুঁকির মধ্যে দিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে’। এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজের পুরো সময়েই গাফিলতি করেছে। সেতু নির্মাণের পর দুই পাশে মাটি ভরাট না করে কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই প্রতীকী কাজ দেখানো হয়েছে।ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক বর্তমানে জেলে থাকায় তাঁর মন্তব্য জানা যায়নি।
এ বিষয়ে নলছিটি উপজেলা প্রকৌশলী আজিজুল হক বলেন, ‘সেতুর দুই পাশে যাদের জমি রয়েছে তারা মাটি ভরাটের কাজে সহযোগিতা করছেন না। এ কারণে সংযোগ সড়কের কাজ আটকে আছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, আশা করি শিগগির সমাধান হবে’।
এলাকাবাসীর দাবি, সেতুটি দ্রুত ব্যবহারযোগ্য করে না দিলে প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যর্থ হওয়ার পাশাপাশি সরকারি অর্থের অপচয়ও ঘটবে।