জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে সদর রাস্তায় রেলগেটের উঁচু-নিচু অংশ প্রতিদিনই দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় দুই বছর আগে রেল সংস্কারের সময় সড়কের পাকা অংশ তুলে ফেলার পর থেকে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, উঁচু-নিচু রাস্তা পারাপারের সময় ছোট যানবাহন উল্টে যাচ্ছে, যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ছেন এবং গাড়িতে থাকা মালামালও নষ্ট হচ্ছে।
স্থানীয় ভ্যানচালক মুমিনুল হকের ভাষ্য, ‘প্রায় দুই বছর আগে রেল সংস্কার করার সময় সড়কের পাকা অংশ তুলে ফেলা হয়। এরপর থেকে যে উঁচু-নিচু অংশ তৈরি হয়েছে, তাতে প্রতিনিয়তই ছোট যানবাহন উল্টে যাচ্ছে। বিশেষ করে অসুস্থ মানুষ যখন এই রেলগেট পার হচ্ছেন, তারা আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন’।
বিহারপুর গ্রামের অটোভ্যান চালক সাদ্দাম হোসেন জানান, ‘রেলগেটের উভয় পাশের সড়ক ভালো হলেও রেলের অংশটি দীর্ঘদিন যাবত উঁচু-নিচু। এই সামান্য অংশ পারাপারে গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। দিন-রাত্রি মিলিয়ে প্রায় ২০টির বেশি ট্রেন চলাচলের সময় দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। ভিড়ের মধ্যে পথচারীদের সঙ্গে গাড়ির ধাক্কা লেগে দুর্ঘটনা ঘটছে। বাস-ট্রাক আটকে যাচ্ছে। এতে মানুষের পাশাপাশি যানবাহনেরও ক্ষতি হচ্ছে’।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিক চৈতন্য চ্যাটার্জী বলেন, ‘আক্কেলপুর রেলগেট অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ। এই রেলগেট পার হয়ে পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় অর্ধ লাখ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন উপজেলা সদরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চলাচল করেন। নতুন ভোগান্তি হিসেবে উঁচু-নিচু রাস্তা যুক্ত হয়েছে। দুর্বল মানুষ আরও দুর্বল হয়ে পড়ছেন। দ্রুত সমান করার ব্যবস্থা নেওয়া হোক’।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আবিদা খনম বৈশাখী জানান, ‘রাস্তার সংস্কার কাজের সময় সড়ক উঁচু করা হয়েছে। রেলের অংশটি সমান না হওয়ায় চলাচলে পথচারীরা চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। বিষয়টি রেল কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে’।
আক্কেলপুর রেল স্টেশন মাস্টার খাতিজা খাতুন জানান, ‘উঁচু-নিচু অংশের কারণে প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে রাতে মাছের গাড়ি চলাচলের সময় গাড়ি থেকে পানি পড়ে আরও বেশি ক্ষতি হচ্ছে। বিষয়টি রেল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বেশ কয়েকবার সেখানে ইট দিয়ে মেরামত করা হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। আগামীতে ডবল রেল লাইনের কাজের সময় রেল লাইন সমান করা হবে’।
আক্কেলপুর রেলগেটের উঁচু-নিচু রাস্তা স্থানীয়দের দৈনন্দিন চলাচলকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। দুর্ঘটনা, যানজট এবং মালামালের ক্ষতির কারণে দ্রুত সমাধানের দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা। রেল কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া এই ভোগান্তি কমানো সম্ভব নয়।