চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় ভরা মৌসুমে সার সংগ্রহ করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন কৃষকেরা। ডিলার পয়েন্টগুলোতে দীর্ঘ লাইন দিয়েও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সার। কৃষকদের অভিযোগ, ডিলারদের সিন্ডিকেট এবং প্রশাসনের তদারকির অভাবেই সারের বাজারে এই অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে। এতে বোরো আবাদ ও রবি শস্য উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কৃষকদের দাবি, জেলায় সারের কোনো প্রকৃত ঘাটতি নেই। মূলত কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও ডিলার যোগসাজশ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করাই তাঁদের উদ্দেশ্য। কেউ প্রতিবাদ করলে বা সারের ন্যায্যমূল্য দাবি করলে তাঁদের খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। এমনকি মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারাও প্রভাবশালী এই চক্রের চাপ ও হুমকির মুখে অসহায় বোধ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
আলমডাঙ্গার স্থানীয় কৃষক জহিরুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কৃষকরা প্রয়োজনের অতিরিক্ত সার কিনে মজুত করছেন—ডিলারদের এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। এমনিতেই ডিলাররা সারের দাম বেশি চাইছে। আমাদের পক্ষে নির্ধারিত দামেই সার কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে, সেখানে বেশি সার কিনব কীভাবে?’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক কৃষক বলেন, ‘ক্ষেতের জন্য যতটুকু দরকার, ততটুকুই পাই না। ডিলাররা বলেন মাছ চাষিরা নাকি সব সার নিয়ে যাচ্ছে। মাছকে কি কেউ সার খাইয়ে মারবে? নিজেদের কারসাজি ঢাকতে এসব বানানো কথা ছড়ানো হচ্ছে।’
সরেজমিনে জানা যায়, স্থানীয় ডিলার ও সচেতন মহলের একাংশ এই সংকটের পেছনে টিএসপি ও ডিএপি সারের অপর্যাপ্ত বরাদ্দকে আংশিক দায়ী করছেন। তাঁদের মতে, জেলায় তামাক ও মাছ চাষে ইউরিয়া সারের অতিরিক্ত ব্যবহার মূল কৃষিতে কিছুটা টান ধরিয়েছে। তবে কৃষকরা বলছেন, এটি অজুহাত মাত্র।
কৃত্রিম সংকটের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয় গত ৯ নভেম্বরের একটি ঘটনায়। সেদিন চুয়াডাঙ্গা সদর কৃষি অফিস থেকে বৈধ কাগজপত্রবিহীন ৪০০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়। অবৈধভাবে ব্যবসায়ীরা এসব সার গোপন গুদামে সরিয়ে নিচ্ছিলেন বলে জানা গেছে।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, ‘জেলায় সারের কোনো সংকট নেই। ডিলারদের চাহিদামাফিক পর্যাপ্ত সার বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও খুচরা বিক্রেতা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। যারা কারসাজি করে কৃষকদের জিম্মি করতে চাইছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
এদিকে, ভুক্তভোগী কৃষকরা প্রশাসনের আশ্বাসে আস্থা রাখতে পারছেন না। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।