লালমনিরহাট রেলওয়ে স্টেশনের লোহা ও কংক্রিটের তৈরি ফুটওভার ব্রিজটি ব্রিটিশ আমলের। ২০০১ সালেই এটিকে ‘মেয়াদোত্তীর্ণ’ ও ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছিল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ ২৫ বছর। মাঝখানে নামমাত্র কিছু সংস্কার কাজ হলেও ব্রিজটির বড় একটি অংশ এখনো জরাজীর্ণ। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই নড়বড়ে সেতু দিয়েই চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন হাজারো ট্রেনযাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দা।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ৪৬৭ ফুট দীর্ঘ ও ৬ ফুট প্রশস্ত এই ফুটওভার ব্রিজটি শহরের পশ্চিম প্রান্তের সঙ্গে পূর্ব প্রান্তের সংযোগ ঘটিয়েছে। লালমনিরহাট স্টেশনে প্রতিদিন অন্তত ২০টি যাত্রীবাহী ট্রেন যাতায়াত করে। এসব ট্রেনের যাত্রীদের প্ল্যাটফর্মে ওঠানামা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সময় ও পথ সাশ্রয়ে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এই ব্রিজ।
সরজমিনে দেখা যায়, ব্রিজের ওপর দিয়ে যখন যাত্রীরা হেঁটে যাচ্ছেন, তখন পুরো কাঠামোটি দুলছে। বিশেষ করে ট্রেন আসার সময় যখন যাত্রীদের চাপ বাড়ে, তখন পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। ব্রিজের সিঁড়িগুলোর অবস্থাও নাজুক। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন ব্যবহারকারীরা।
হাকিম মিয়া নামের এক ষাটোর্ধ্ব ট্রেনযাত্রী বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই এই ব্রিজের ওপর দিয়েই চলছি। এখন একসঙ্গে অনেক মানুষ উঠলে মনে হয় নিচে ভেঙে পড়বে। ব্রিজের একাংশ ঠিক করা হলেও বাকি অংশ আগের মতোই ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
দীর্ঘ দাবির প্রেক্ষিতে ২০২০ সালের মার্চে ফুটওভার ব্রিজটির পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল। সে সময় ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪৬৭ ফুটের মধ্যে মাত্র ২১০ ফুট অংশ পুনর্নির্মাণ করা হয়। কিন্তু বরাদ্দের অভাবে অবশিষ্ট ২৫৭ ফুট অংশ আর সংস্কার করা হয়নি। ফলে ব্রিজের এক অংশ নতুন হলেও বাকি অংশটি ২৫ বছরের পুরোনো জরাজীর্ণ দশাতেই রয়ে গেছে।
লালমনিরহাট রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার নুরুন্নবী ইসলাম বলেন, ‘ট্রেন স্টেশনে ঢোকার সময় প্রায় দুই শতাধিক যাত্রী একসঙ্গে ব্রিজে ওঠেন। তখন ঝুঁকিটা সবচেয়ে বেশি থাকে। সেতু বিভাগ কয়েক দফায় এটি পরিদর্শন করেছে। কিন্তু কাজ কেন এগোচ্ছে না, তা বলতে পারছি না।’
এ বিষয়ে রেলওয়ের বিভাগীয় প্রকৌশলী শিপন আলী বলেন, ‘ব্রিজটির মেয়াদ ২৫ বছর আগেই শেষ হয়েছে, এটা সত্য। জরাজীর্ণ অংশের বিষয়টি আমরা সেতু বিভাগকে জানিয়েছি। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা করছি।’
বরাদ্দ সংকটের কথা স্বীকার করে রেলওয়ে সেতু বিভাগের প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘২০২০ সালে কাজ শুরু হলেও পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় ব্রিজটির সম্পূর্ণ অংশ পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। অবশিষ্ট অংশের জন্য নতুন প্রকল্প প্রস্তুত করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই আগামী বছর নির্মাণকাজ শুরু করা যাবে বলে আশা করছি।’