আমন ধান কাটা শেষ হতে না হতেই বগুড়ার নন্দীগ্রামের মাঠজুড়ে এখন শীতকালীন সবজি ও ফসল চাষের ধুম। বিশেষ করে আগাম জাতের আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন উপজেলার কৃষকেরা। বাজারে আলুর দাম ভালো থাকায় এবং আগাম মৌসুমে বাড়তি লাভের আশায় কৃষকরা মাঠে নেমেছেন।
উপজেলার রিদ্ধইল, কাথম, তেঘরি, দোহার, ভাটগ্রাম ও বুড়ইলসহ বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে জমি প্রস্তুত, বীজ রোপণ ও সেচের কাজ। মাঝে কয়েকদিনের বৃষ্টিতে চাষাবাদে কিছুটা বিলম্ব হলেও বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পুরোদমে এগিয়ে চলছে কাজ।
কৃষি অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এবার ডায়মন্ড, পাকরি, কাজললতা ও কার্ডিনাল জাতের আলু বেশি চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে ‘ডায়মন্ড’ জাতের আলুর প্রতি কৃষকদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কারণ হিসেবে কৃষকরা জানান, এই জাতের আলু মাত্র ৭০-৭৫ দিনের মধ্যেই তোলা যায় এবং রোগবালাই কম হয়। এছাড়া আগাম বাজারে এর চাহিদাও থাকে বেশি।
নন্দীগ্রাম সদর ইউনিয়নের হাঁটুয়া আলাইপুর গ্রামের কৃষক ও সাবেক পৌর মেয়র সুশান্ত কুমার শান্ত বলেন, ‘চার বিঘা জমিতে সানসাইন জাতের আগাম আলু লাগিয়েছি। বিঘাপ্রতি প্রায় ২৫ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। যদি বাজার ভালো থাকে, তবে বিঘায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার আলু বিক্রি করা সম্ভব হবে।’
রিদ্ধইল গ্রামের কৃষক সাজু বলেন, ‘নন্দীগ্রামের মাটি আলু চাষের জন্য খুবই উপযোগী। গতবার আগাম আলুর দাম কম থাকায় ক্ষতি হয়েছিল। এবার সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তিন বিঘা জমিতে ডায়মন্ড জাতের আলু লাগাচ্ছি। আশা করছি এবার ভালো লাভ হবে।’
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে নন্দীগ্রাম উপজেলায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় কিছুটা কম। তবে লক্ষ্যমাত্রা কম হলেও আগাম বীজ বপনে কৃষকদের আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাকিরুল ইসলাম বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূল থাকলে ৭০-৭৫ দিনের মধ্যেই কৃষকরা আগাম আলু বাজারে তুলতে পারবেন। আমরা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, উন্নতমানের বীজ ও সুষম সার ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছি। আশা করছি, আগাম আলু চাষে এ বছর কৃষকরা লাভবান হবেন।’