বয়স ৭০ পেরিয়েছে। শরীরে বার্ধক্যের ছাপ স্পষ্ট। এই বয়সে নাতি-নাতনিদের নিয়ে সময় কাটানোর কথা থাকলেও পেটের দায়ে রিকশার হ্যান্ডেল ধরে রাস্তায় নামতে হয় মো. আয়নাল কবিরাজকে। হাড়কাঁপানো শীতেও তাঁর গায়ে নেই কোনো গরম কাপড়।
বাগেরহাট শহরের খানজাহান পল্লীর গোবদিয়া এলাকার (৮ নম্বর ওয়ার্ড) লেকপাড়ের একটি জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস আয়নাল কবিরাজের। ঘরে ৬৫ বছর বয়সী অসুস্থ স্ত্রী। কিডনি রোগে আক্রান্ত স্ত্রীর চিকিৎসা তো দূরের কথা, ঠিকমতো দুই বেলা খাবার জোটানোই তাঁদের জন্য দায়।
আয়নাল কবিরাজ জানান, চার ছেলে–মেয়ে থাকলেও কেউ তাঁদের খোঁজ নেন না। জীবন বাঁচাতে বাধ্য হয়ে এই বয়সেও রিকশা নিয়ে বের হন। কিন্তু শরীরে শক্তি পান না, রিকশা চলে ধীরলয়ে। তাই যাত্রীরাও তাঁর রিকশায় উঠতে চান না। যেদিন শরীর চলে, সেদিন রিকশা নিয়ে বের হন। সারা দিনে আয় হয় গড়ে ৯০ টাকা—সকালে ৪০ আর বিকেলে ৫০ টাকা। এই সামান্য টাকায় চাল-ডাল কিনবেন, নাকি স্ত্রীর ওষুধ কিনবেন—সেই হিসাব মেলাতে পারেন না তিনি।
আক্ষেপ করে আয়নাল কবিরাজ বলেন, ‘পেট তো আর শীতের কথা শোনে না। স্ত্রী পথ চেয়ে থাকে, বাজার নিয়ে গেলে রান্না হবে। এরপরও আলহামদুলিল্লাহ।’
দরিদ্র এই দম্পতির ওপর মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে এসেছে পৌর করের নোটিশ। আয়নাল জানান, পৌরসভা থেকে ১ হাজার ৩৮৯ টাকার কর পরিশোধের নোটিশ এসেছে। ঘরে খাবার নেই, বিল দেবেন কী দিয়ে, এ নিয়ে হতাশায় ভুগছেন তিনি।
প্রতিবেশীরা জানান, বয়সের ভারে আয়নাল ঠিকমতো রিকশা চালাতে পারেন না। আত্মসম্মানবোধের কারণে কারও কাছে হাতও পাতেন না। ঘরে পর্যাপ্ত বিছানা নেই, রান্নার উপকরণ নেই। অনেক সময় না খেয়েই দিন পার করতে হয় এই দম্পতিকে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসন যদি বয়স্ক ভাতা, চিকিৎসা সহায়তা বা বাসস্থানের ব্যবস্থা করে, তবে শেষ বয়সে কিছুটা স্বস্তি পেতেন এই বৃদ্ধ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাগেরহাট স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ডা. মো. ফকরুল হাসান বলেন, ‘আয়নাল কবিরাজ দম্পতির বিষয়টি অত্যন্ত মানবিক। বয়স ও অসুস্থতা নিয়ে তাঁরা যে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন, তা দুঃখজনক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। দ্রুতই তাঁদের প্রয়োজনীয় সহায়তা করা হবে।’