বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ফিশিংবোটসহ ১৩ জেলে নিখোঁজ হয়েছেন। গত ১২ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন তারা। নিখোঁজ জেলেদের পরিবার চরম উদ্ভেগ আর উৎকণ্ঠায় দিন পার করছে।
নিখোঁজরা হলেন—আছমত মাঝির ছেলে ট্রলার মালিক মো.ফারুক (৫৩), আব্দুল মালেকের ছেলে মো.জাহাঙ্গীর (৩৮), মো. নুরুল ইসলামের ছেলে মো. শামিম (২৩), মো. হানিফের ছেলে মো. খোকন (৩৫), মো. সবুজের ছেলে সজিব (২২), আছমত আলীর ছেলে মো. আলম (৪৬), মফিজুল হকের ছেলে হেলাল উদ্দিন (৪০), জয়নাল আবেদীন মোল্লার ছেলে মো. ফারুক (৪২), আবুল কাশেমের ছেলে মাকসুদুর রহমান (৪২), মো. ভুট্রুর ছেলে মো. ছাব্বির (২৫), মো. নাছির, আব্দুল মালেক ও মো. মাকসুদ।
তারা সবাই উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্যায়ারী মোহন ও কুলছড়া গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীদের পরিবার জানায়, গত ১০ নভেম্বর দুপুরে ধলীগৌরনগর মাস্টার বাজার এলাকার পাশ থেকে মেঘনা নদী হয়েছে ছেড়ে যায় মা-বাবার দোয়া নামে ফিশিংবোটটি। পাঁচ দিনের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে ট্রলার মালিক ফারুক মাঝির নেতৃত্বে ১৩ জন জেলে যাত্রা করেন। পরে চরফ্যাশনের সামরাজ ঘাটে থেকে বরফ নিয়ে ফের বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশ্যে রওনা হন তারা। এর পরদিন থেকে ট্রলারটির সঙ্গে পুরোপুরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়।
ট্রলার মালিকের ছেলে মো. শাহীন জানান, আমাদের ফিশিংবোটে জিপিএস ছিল না। পাঁচদিনের বাজার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে ১৩ জন জেলে সাগরে গিয়েছিল। ৫-৬ দিনের মাথায় সাধারণত তারা তীরে ফিরে আসেন। কিন্তু ১০ নভেম্বর তারা সাগরের উদ্দেশ্যে যাত্রার পর ১১ নভেম্বর থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গত ১৩ দিন হয়ে গেল অথচ তাদের কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। তাদের সঙ্গে থাকা মোবাইলও বন্ধ। আমরা সকলেই চিন্তায় রয়েছি, জানি না তাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে। আমি চাই, আমার বাবাসহ ট্রলারের সকল জেলের সন্ধানে প্রশাসন এগিয়ে আসুক, তাদের ফেরত চাই।
নিখোঁজ জেলেদের সন্ধানে ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, এসব আমাদের কাজ না। এটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের কাজ।
লালমোহন থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মাসুদ হাওলাদার বলেন, নিখোঁজ জেলেদের সন্ধানে গতকাল একটি বোট সাগরে গেছে। এখনও কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। উদ্ধারকারী বোটটিও ফেরেনি।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির ভোলা জেলার সাধারণ সম্পাদক মো. এরশাদ বলেন, আমাদের ১৩ জন জেলে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ডুবে মারা গেল? না কী হয়েছে তা-ও খোঁজ করে পাচ্ছি না। তাদের খোঁজে উদ্ধার অভিযান চালানোর জন্য কোস্ট গার্ড ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে জোড় দাবি জানাই।