ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামালপুর-৩ (মেলান্দহ–মাদারগঞ্জ) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়েছে। বিএনপি থেকে সদ্য পদত্যাগ করে দলে যোগ দেওয়া প্রকৌশলী দৌলতুজ্জামান আনসারীকে এই আসনে ‘হাতপাখা’ প্রতীকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
আজ রোববার ঢাকায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম আনুষ্ঠানিকভাবে দৌলতুজ্জামান আনসারীর হাতে দলীয় প্রতীক তুলে দেন। এর ফলে এই আসনে আগে থেকে প্রচারে থাকা মুফতি জাহিদুল ইসলাম বাদ পড়লেন।
প্রতীক তুলে দেওয়ার সময় মেলান্দহ উপজেলা ইসলামী আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মোখলেছুর রহমান, সদ্য সাবেক প্রার্থী মুফতি জাহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত ১৮ নভেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতির পদ থেকে লিখিতভাবে পদত্যাগ করেন দৌলতুজ্জামান আনসারী। এরপর গত বুধবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে যোগ দেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জামালপুর-৩ আসনে এতদিন হাতপাখার প্রার্থী হিসেবে ইসলামী যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মুফতি জাহিদুল ইসলাম ব্যাপক গণসংযোগ ও পথসভা করে আসছিলেন। তবে হঠাৎ বিএনপি নেতা দৌলতুজ্জামানের যোগদানে হিসাব পাল্টে যায়। মাঠপর্যায়ের জরিপ, তৃণমূলের মতামত এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ের মূল্যায়নের ভিত্তিতে শেষ মুহূর্তে প্রার্থী পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয় দলটি।
এ বিষয়ে ইসলামী আন্দোলনের মেলান্দহ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘মাঠের বাস্তব চিত্র, জরিপ ও সাংগঠনিক প্রয়োজন বিবেচনায় কেন্দ্র নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দৌলতুজ্জামান আনসারীর হাতে হাতপাখা প্রতীক তুলে দেওয়া হয়েছে। আমরা মনে করছি, ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী হিসেবে তিনিই এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।’
মনোনয়নবঞ্চিত হয়েও দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন মুফতি জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘দলের সিদ্ধান্তই সর্বোচ্চ। আমি শুরু থেকে হাতপাখার পক্ষে মাঠে ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব। দলের স্বার্থেই কাজ করে যাব।’
প্রকৌশলী দৌলতুজ্জামান আনসারীর বাড়ি মেলান্দহ উপজেলার ঘোষেরপাড়া ইউনিয়নের ছবিলাপুর এলাকায়। তিনি একসময় জাতীয় পার্টির প্রার্থী ছিলেন। পরে বিএনপিতে যোগ দিয়ে কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও ময়মনসিংহ বিভাগের প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন এবং এই আসনে ধানের শীষের মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে কাজ করেছেন।