ধর্ম অবমাননার অভিযোগে বাউলশিল্পী আবুল সরকারকে গ্রেপ্তারের পর চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে তাঁর পরিবার। ঘরবাড়িতে হামলার আশঙ্কায় দিন কাটছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানিয়েছেন শিল্পীর মেয়ে ও ‘জলের গান’ ব্যান্ডের সদস্য ইন্নিমা রোশনি।
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জাবরা এলাকায় এক পালাগানের আসরে মহান আল্লাহকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে গত ১৯ নভেম্বর রাতে মাদারীপুর থেকে আবুল সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বাবার গ্রেপ্তারের পর নিজেদের অসহায় পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে ফেসবুকে ইন্নিমা রোশনি লিখেছেন, ‘আপনারা সবাই হয়তো জানেন আমি এবং আমার পরিবার কী রকম একটা কঠিন সময় পার করছি। এমন একটা দুঃসময়কে যারা আরও বেশি দুর্বিসহ করে তোলার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন তাদেরকে আমার খুব বেশি কিছু বলার নাই। শুধু বলতে চাই, আপনাদের জীবনে যেন কখনও এই রকম দুর্বিসহ দুঃসময় নেমে না আসে।’
তিনি আরো লেখেন, 'আসলে একসাথে অনেক কিছু প্রসেস করতে হচ্ছে, ‘জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে সবসময়। কারা কখন গিয়ে আমাদের ঘর ভাঙ্গে, কখন আমার পরিবারের কারও উপর আঘাত হানে এসব নানা বিধ চিন্তা মাথায় নিয়ে বাঁচতে হচ্ছে। সবকিছু মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে। যেই মানুষগুলা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন তাদেরকে কী বলে ধন্যবাদ জানাবো আমি জানি না। আমি প্রচণ্ড কৃতজ্ঞ! প্রচণ্ড!’
রোববার (২৪ নভেম্বর) মানিকগঞ্জে বাউল আবুল সরকারের মুক্তির দাবিতে তাঁর ভক্তরা মানববন্ধন করার সময় ‘তৌহিদি জনতা’র ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল থেকে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তিন-চারজন আহত হন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনার পর আহতদের ছবি ফেসবুকে শেয়ার করে ইন্নিমা লিখেছেন, ‘যাঁরা আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন, যেই বাউল ভাইয়েরা আজ আহত হয়েছেন, তাঁরা আসলে আমার পরিবার। আমরা একে অপরের জন্যই বাঁচি।’
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি মানিকগঞ্জের ঘিওরে এক পালাগানে আবুল সরকার সংগীত পরিবেশন করেন। ওই অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় আলেম-ওলামারা ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তোলেন। এর জেরে মুফতি মো. আবদুল্লাহ বাদী হয়ে ঘিওর থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় ১৯ নভেম্বর রাতে মাদারীপুরের একটি গানের আসর থেকে মানিকগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাঁকে আটক করে এবং পরদিন আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।